| ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কি ভয়াল আগ্রাসন -------

দেশের ভূখণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহ বিস্তারে সমাজিক নিরাপত্তাহীনতা.

দেশের ভূখণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহ বিস্তারে সমাজিক নিরাপত্তাহীনতা.


এম. আবদুল্লাহ আনসারী.

দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ এক সামাজিক ব্যাধি—জুয়া ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে বসছে অনলাইন ও অফলাইন জুয়ার আসর। পাড়া মহল্লায় মাদকজাত দ্রব্য সেবনকারীর সংখ্যা এখন কোল্ড ড্রিংকস বা ঠান্ডা পানীয় বেভারেজ পণ্যের গ্রাহকের চেয়ে বেশীই মনে হচ্ছে। বাংলা মদ বা ছোলাই মদ খেয়ে রাস্তায় আর্ধ চেতন বা অবচেতনে পড়ে থাকতে দেখেই অনুমান করাযায় এ রাক্ষসী মাদক সমাজকে ধ্বংসের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।
স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ব্যাপক ভাবে মাদক জুয়ায় নেশাগ্রস্থ হয়ে সর্ব শান্ত হয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি করছে। জুয়া ও মাদকের টাকা যোগাড় করতে গিয়ে আশঙ্কাজনক হারে জড়িয়ে পড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মত অপরাধে। জুয়াড়ি ও মাদকাসক্তদের হাতে প্রতিনিয়ত পিতা মাতা ও স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হওয়ায় পারিবারিক কলহের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।
মাদকের সহজলভ্যতা ও অনলাইন জুয়ার আসর অনিয়ন্ত্রিত হওয়ায় উঠতি বয়সের ছেলেরা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ঘটনা সমুহ দেখে শুনে বুঝাযায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে দোকান ও রাস্তার ধারে এমনকি ক্ষেত খামারে জুয়ার আসর প্রকাশ্যে চললেও শক্তিশালী প্রশাসনিক প্রতিকার না থাকায় অভিভাবকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এবং বিচলিত হয়ে উদ্যোগ প্রকাশ করছে অনেকে।
সমাজে তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে ধ্বংস হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধ।
একদিকে জুয়ায় সর্ব শান্ত হওয়া, অন্যদিকে অপরাধের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিরীহ জনগণ।
এই সব অপরাধকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার বাইরে রেখে একটি গভীর সামাজিক সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিন্তা করার সময় এসেছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। জুয়াকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে এক ভয়াবহ অপরাধ চক্র। চুরি ছিনতাই সহ সুদের কারবারে জড়িয়ে দায় দেনার মার পেঁচে আটকে যাচ্ছে অনেক পরিবার।
অনেকে মন্তব্য করছেন , “গাঁজা, ইয়াবা আর জুয়ার ভয়াল ছোবলে আমাদের সমাজ ভেঙে পড়ছে।
উঠতি বয়সের ছেলেরা ধ্বংসের মাঝ পথে হাঁটছে, পরিবারগুলো হচ্ছে সর্ব শান্ত।” তাদের মতে, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই এখন চুরি-ডাকাতি বা মাদক বেচাকেনায়া জড়িয়ে পড়ছে। জমি জবর দখলে ভাড়ায় গিয়ে মারামারি করছে।
রাস্তার ধারে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় উঠতি বয়সের ছেলেরা চেতনাহীন ও অর্ধচেতনে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সচেতন মহল বলছে, “যদি এখনই প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পুরো দেশের সামাজিক কাঠামোই ধ্বংস হয়ে পড়বে। পরিবার, শিক্ষা, নৈতিকতা—সব হারিয়ে যাবে এক ভয়াল অন্ধকারে।”
সমাজের কেউ মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করলেও অনেক অভিভাবক নিজেদের সন্তানের পক্ষ নিলে সামাজিক ভাবে মতবিরোধও সৃষ্টি হচ্ছে।
সামাজিক প্রতিরোধ না হলে প্রশাসনের পক্ষে এবিপর্যয় মোকাবেলা করা সহজ হবেনা বলে ধরে নিয়ে প্রতিনিয়ত বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে থানা প্রশাসন ক্যাম্পিং করেছে। সমাজের প্রতিনিধিরা অভিভাবকদের সতর্ক করছে পারিবারিক ও সামাজিক কঠোরতা ছাড়া মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা বন্ধ করা যাবে না।

এদিকে, সচেতন মহলের প্রত্যাশা—পুলিশ প্রশাসন প্রান্তিক প্রশাসন ও সমাজের অভিভাবক শ্রেণী অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাদক ও জুয়ার ভয়াল আগ্রাসন এখনই দমন না করেন, তাহলে তা পুরো গ্রামীণ সমাজ কাঠামোকে গ্রাস করে ফেলবে।

মহেশখালীতে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

দেশের ভূখণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহ বিস্তারে সমাজিক নিরাপত্তাহীনতা.

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালীতে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ বহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ( ১৬ এপ্রিল ) বিকালে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চিকনি পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধার ঘোনা গ্রামের মৃত শরীফের পুত্র নুরুচ্ছফা (৩৫), একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), চিকনি পাড়া এলাকার মৃত হাকিম উদ্দিনের পুত্র আজিজুল হক (৩০)।
মহেশখালী থানা থেকে রাত ৯ ঘটিকার সময় পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বদরখালীমুখী একটি অটোরিকশা সিএনজি বিপুল পরিমা দৈশিয় মাদক পাচার হচ্ছে। এমন সংবাদে মহেশখালীর থানার ওসির নির্দেশে কালারমারছড়া পুলিশ বিটের এএস আই মনিরের নেতৃত্বে পুলিশ মহেশখালী কালারমােছড়া সড়কের চিকনি পাড়া এলাকার সড়কের সামনে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে।

এক পর্যায়ে সন্দেহজনক একটি অটোরিকশা থামালে তাতে থাকা তিন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে বস্তা ভর্তি ৪০ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সোলতান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মুক্তি পণ দিয়ে ফিরছে অনেকে

সাগর পথে মালেশিয়াগামী পেকুয়ার ইসহাক -আজগরের ১৫ দিনেও খুঁজ নেই

দেশের ভূখণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহ বিস্তারে সমাজিক নিরাপত্তাহীনতা.

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে সাগর পথে মালেশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অনেকে মুক্তি পণ দিয়ে ফিরে এসেছেন।
পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নুরুল কাদেরের ছেলে ইসহাক মিয়া (৩৫) বদিউল আলমের ছেলে আজগর(২২) সহ অনেকে বাড়ী থেকে দালাল চক্রের হাত ধরে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।
পরিবারের দাবী কাউকে না জানিয়ে একই পাড়ার বাসিন্দা সাবেক করিয়ারদ্বিয়ার খায়রুল আমিন, তার প্রতিবেশী ওমর ফারুক পেকুয়া সদরের নন্দীর পাড়ার দলিল আহমেদের ছেলে সিএনজি চালক বাদশা মিয়া নিয়ে গিয়ে নাইক্ষনছড়ির ইমাম শরীফের কাছে দিয়ে দিলে টেকনাফে দিয়ে আসে। ৩ দিনের মত অবস্থান করে বোটে তুলে দেয়া হয়। এর পর থেকে আর কোন প্রকার খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় দালাল চক্রও নিখোঁজদের ব্যপারে কোন তথ্য দিচ্ছে না বলে জানান ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।
ইসহাক মিয়ার মা রহিমা বেগম বলেন, ছেলে ইসহাক মালেশিয়া যাওয়ার কথা ৮ এপ্রিল বিমানের টিকেটও কেটেছে। হঠাৎ জানতে পেরেছেন প্রতিবেশী ওমর ফারুক ও তার ভগ্নিপতি খায়রুল আমিন বোটে করে মালেশিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য টেকনাফ নিয়ে গেছে। তাদের বাড়ীতে গিয়ে ছেলের ফ্লাইটের কথা বলে ফেরত আনতে বলেন। তারা ৩০ হাজার টাকার কথা বললে দিবও বলেছি এরপরও ইসহাককে ফেরত দেয়নি। এক মিনিট কথাও বলতে দেয়নি। ইসহাকের স্ত্রী তছলিমা বলেন, স্বাভাবিকভাবে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য ৮ এপ্রিল ফ্লাইটের কথা ছিল। দালালের খপ্পরে পড়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সাগর পথে চলে যায়। দালালের কাছ থেকে ফেরত আনতে অনেক চেষ্টা করার পরও পারিনি। কি অবস্থায় আছে তাও জানতে পারছিনা।
এদিকে ইসহাক ও আজগরের সাথে
১ এপ্রিল যাওয়ার সময় জসিমের ছেলে ওসমানসহ গেলেও ওসমান টেকনাফ থেকে ফিরে আসে।
মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য খায়রুল আমিন ও ওমর ফারুক ১৫এপ্রিল পেকুয়া উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নাজেম উদ্দিনের ছেলে রকিকে ৫০ হাজার টাকা ও আনোয়ার হোছাইনের ছেলে আনছার উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা মুক্তি পণ আদায় করে দালাল চক্রের জিম্মিদশা থেকে ফেরত এনেছেন।
নাজেম উদ্দিন বাদী হয়ে এরকম একটি অভিযোগ পেকুয়া থানায় দায়ের করা হলে পেকুয়া থানার এএসআই আকতার হোছাইন তদন্ত করছেন বলে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আলম জানান।

মহেশখালী হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

দেশের ভূখণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহ বিস্তারে সমাজিক নিরাপত্তাহীনতা.

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালী উপজেলা হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহফুজুল হক এ সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, রোগীসেবা উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আজমল হুদা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম, মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুস সোলতান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৈকত বডুয়া, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার দিদার আলম, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার আমজাদ হোসেন, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কাইছার হামিদ মনির, উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনছার উল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তারেক রহমান জুয়েল, সাংবাদিক সরওয়ার কামাল, ফারুক ইকবাল’সহ এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্য, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত সদস্যরা হাসপাতাল ১০০ শ্যাযায় উন্নীত করন, নতুন ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মি, নিরাপত্তা কর্মি ও আনচার নিয়োগ’সহ সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।