মাতামুহুরী নদীতে শ্যালো মেশিনের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক
কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিরক্ষা উন্নয়ন কাজের সংকটাপন্ন এলাকায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার কৈয়ারবিল মুহুরীপাড়া অংশে মাতামুহুরি নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের এমন দৃশ্য দেখা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,শ্যালো মেশিনের বিকট শব্দে রাতের বেলায় ওই এলাকার পরিবার গুলোর ঘুম হারাম হয়ে গেছে। জড়িতরা স্থানীয়ভাবে দাপুটে হওয়ায় এলাকাবাসী কেউ সেলো মেশিন বন্ধ করতে এবং বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে দিবা রাত্রি বালু উত্তোলনের কারণে ওই এলাকায় নতুন করে নদী ভাঙ্গনের উদ্বেগ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর মাঝে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (কক্সবাজার পওর বিভাগ-২) নির্বাহী প্রকৌশলী অরুপ চক্রবর্তী বলেন,দুই বছর আগে চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর কৈয়ারবিল মুহুরীপাড়া থেকে ছিকলঘাট মন্ডলপাড়া অংশে নদীর তীরে সাড়ে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ২২০০ মিটার প্রতিরক্ষা উন্নয়ন কাজ করেছেন বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই প্রতিরক্ষা উন্নয়ন কাজের বদৌলতে কৈয়ারবিল ইউনিয়ন ও পাশের লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের হাজারো পরিবার তাদের বসতবাড়ি, ফসলি জমি মসজিদ মাদ্রাসা ও কবরস্থান নদীতে তলিয়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষা করতে পেরেছে। অথচ এখন মাতামুহুরী নদীর সংকটাপন্ন সেই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে পাউবোর উন্নয়ন কাজ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন কতিপয় লোকজন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাউবোর সাড়ে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দে নির্মিত টেকসই প্রতিরক্ষা কাজের স্থায়ীত্বের কল্যাণে নদী ভাঙ্গনের পথ রুদ্ধ হবার পর ইতোমধ্যে ওই এলাকা তথা কৈয়ারবিল মুহুরীপাড়া ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া,রোস্তম আলী চৌধুরী পাড়া পয়েন্টে নদীর তীরে নতুন করে বিল্ডিং তথা পাকা বসতবাড়ি তৈরি শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি এলাকায় উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে নতুন করে সাজানো ঘুচানো হচ্ছে মসজিদ মাদ্রাসা,সরকারি প্রাইমারী স্কুল গুলোর অবকাঠামো। মুলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই জিওব্যাগ ডাম্পিং কাজের কারণে নদী ভাঙ্গনের উদ্বেগ আতঙ্ক কেটে যাওয়ায় এলাকাবাসীও সেখানে নির্ভয়ে বসবাস শুরু করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে,সম্প্রতি সময়ে স্থানীয় একাধিক দাপুটে চক্র মাতামুহুরী নদীর কৈয়ারবিল মুহুরীপাড়া ও মন্ডলপাড়া প্রাইমারী স্কুল লাগোয়া নদীর তীরে পাউবোর প্রতিরক্ষা কাজের সংকটাপন্ন এলাকায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পাউবোর প্রতিরক্ষা কাজের বিপরীতে বসবাসের ক্ষেত্রে এতদিন নির্ভয়ে থাকা স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে নতুন করে নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে জানান,স্থানীয় আশেক, কাউছার ও মনু নামের কতিপয় বালু লুটেরা চক্র প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিরক্ষা কাজের সংকটাপন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। এমনকি নদীতে বসানো তাদের একাধিক শ্যালো মেশিনের বিকট শব্দে রাতের বেলায় স্থানীয় এলাকাবাসী ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেনা।
এ অবস্থায় স্থানীয় এলাকাবাসী এবং পরিবেশ সচেতন মহল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাড়ে ৮ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কাজের সুরক্ষা ও মাতামুহুরী নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি বালু লুটেরা চক্রের বিরুদ্ধে তড়িৎ অভিযান পরিচালনা করে আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) রুপায়ন দেব বেলাভূমিকে বলেন,কৈয়ারবিল মুহুরীপাড়া লাগোয়া পাউবোর প্রতিরক্ষা কাজের সংকটাপন্ন এলাকা থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার বিষয়টি ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছি। জড়িত বালুখেকোরা প্রশাসনের অভিযান ফাঁকি দিতে এখন কৌশল পাল্টিয়ে রাতের বেলায় বালু উত্তোলন করছে।
তিনি আরও বলেন,পাউবোর উন্নয়ন কাজের সুরক্ষা এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে অবশ্যই ওই এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হবে।









