সাগরিকার ‘চার গোল:চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
দুপুরে উত্তরায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকে মূহ্যমান দেশের ক্রীড়াঙ্গন। শোক ছুয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতেও। এই ঘটনার শোক জানিয়ে আজ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যকার অঘোষিত ফাইনালের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দু’দল। শোকের দিনের এই টুর্নামেন্টে অবশ্য নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশকে শিরোপা এনে দেন মোসাম্মৎ সাগরিকা।
ডাবল লীগ পদ্ধতির টুর্নামেন্টে যে দল পয়েন্ট বেশি পাবে, তারাই হবে চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ১১ দিনের টুর্নামেন্টের গতকালের শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল অলিখিত ফাইনালে। ভারত না থাকায় এবারের টুর্নামেন্টে দুই ফেবারিট বাংলাদেশ-নেপালের প্রথম দেখায় ছিল লড়াইয়ের ঝাঁজ। শেষ পর্যন্ত নেপাল হারে ৩-২ গোলে। সেই জয় বাংলাদেশকে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে রাখলেও ছিল অন্য হিসাব। গতকাল নেপালের কাছে হারলেই হাতছাড়া হয়ে যেতো ট্রফি! তবে ড্র করলেও চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশ। সেখানে নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের ঘরেই রেখে দিয়েছে মেয়েরা। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেন সাগরিকা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড।
এদিন ম্যাচের অষ্টম মিনিটে সাগরিকার দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। আক্রমণের সুর বেঁধে দেন পূজা দাস। নিজেদের অর্ধ থেকে মাঝ মাঠে বল দেন স্বপ্না রানীর পায়ে। এই মিডফিল্ডারের রক্ষণচেড়া পাসে বল পেয়ে যান সাগরিকা। এরপর অনেকটা একাই বল টেনে নেন সাগরিকা। নেপালের গোলরক্ষক সুজাতা বেড়িয়ে আসেন পোস্ট ছেড়ে। তাকে বোকা বানিয়ে সোজা গোলে শট নেন সাগরিকা। বল গড়িয়ে খুঁজে নেয় জাল। লাল কার্ড ইস্যুতে টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর মাঠে নেমেই প্রতিযোগিতায় নিজের পঞ্চম গোলটি পান বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে প্রথমে ভাগ্য এরপর গোলরক্ষক মিলির দারুণ সেভে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ২১ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে বাংলোদেশের সামনে।
তবে এবারও গোললাইন ক্লিয়ার করে বেঁচে যায় অতিথিরা। আক্রমণ শুরুর শান্তির পাস থেকে। এই ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে নিজেদের অর্ধ থেকেই প্রতিপক্ষের সীমানায় উড়িয়ে মারেন স্বপ্না। অনেকটা দৌরে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মুনকি আক্তার। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক তখন অনেকটাই উপরে। সেটি দেখেই গোলরক্ষক সুজাতার মাথার উপর দিয়ে গোলে বা পায়ের দূরপাল্লার শট নেন এই ফরোয়ার্ড। বল যাচ্ছিল জালের দিকে; শেষ মুহূর্তে এসে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার আনিশা রাই। দ্বিতীয়ার্ধে আরো এক গোল করেন সাগরিকা। উম্মেলা মারমার বাড়ানো বলে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। পাঁচ মিনিট পর ম্যাচে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাগরিকা। জয়নব বিবির মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বলে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে জড়ান বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে আরো এক গোল করেন সাগরিকা। এটি আসরে তিন ম্যাচে সাগরিকার অষ্টম গোল। গত আসরে ভারতের সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।










