| ২১ জুন ২০২৬

সাগরিকার ‘চার গোল:চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

সাগরিকার ‘চার গোল:চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

দুপুরে উত্তরায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকে মূহ্যমান দেশের ক্রীড়াঙ্গন। শোক ছুয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতেও। এই ঘটনার শোক জানিয়ে আজ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যকার অঘোষিত ফাইনালের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দু’দল। শোকের দিনের এই টুর্নামেন্টে অবশ্য নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশকে শিরোপা এনে দেন মোসাম্মৎ সাগরিকা।
ডাবল লীগ পদ্ধতির টুর্নামেন্টে যে দল পয়েন্ট বেশি পাবে, তারাই হবে চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ১১ দিনের টুর্নামেন্টের গতকালের শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল অলিখিত ফাইনালে। ভারত না থাকায় এবারের টুর্নামেন্টে দুই ফেবারিট বাংলাদেশ-নেপালের প্রথম দেখায় ছিল লড়াইয়ের ঝাঁজ। শেষ পর্যন্ত নেপাল হারে ৩-২ গোলে। সেই জয় বাংলাদেশকে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে রাখলেও ছিল অন্য হিসাব। গতকাল নেপালের কাছে হারলেই হাতছাড়া হয়ে যেতো ট্রফি! তবে ড্র করলেও চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশ। সেখানে নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের ঘরেই রেখে দিয়েছে মেয়েরা। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেন সাগরিকা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড।

এদিন ম্যাচের অষ্টম মিনিটে সাগরিকার দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। আক্রমণের সুর বেঁধে দেন পূজা দাস। নিজেদের অর্ধ থেকে মাঝ মাঠে বল দেন স্বপ্না রানীর পায়ে। এই মিডফিল্ডারের রক্ষণচেড়া পাসে বল পেয়ে যান সাগরিকা। এরপর অনেকটা একাই বল টেনে নেন সাগরিকা। নেপালের গোলরক্ষক সুজাতা বেড়িয়ে আসেন পোস্ট ছেড়ে। তাকে বোকা বানিয়ে সোজা গোলে শট নেন সাগরিকা। বল গড়িয়ে খুঁজে নেয় জাল। লাল কার্ড ইস্যুতে টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর মাঠে নেমেই প্রতিযোগিতায় নিজের পঞ্চম গোলটি পান বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে প্রথমে ভাগ্য এরপর গোলরক্ষক মিলির দারুণ সেভে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ২১ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে বাংলোদেশের সামনে।

তবে এবারও গোললাইন ক্লিয়ার করে বেঁচে যায় অতিথিরা। আক্রমণ শুরুর শান্তির পাস থেকে। এই ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে নিজেদের অর্ধ থেকেই প্রতিপক্ষের সীমানায় উড়িয়ে মারেন স্বপ্না। অনেকটা দৌরে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মুনকি আক্তার। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক তখন অনেকটাই উপরে। সেটি দেখেই গোলরক্ষক সুজাতার মাথার উপর দিয়ে গোলে বা পায়ের দূরপাল্লার শট নেন এই ফরোয়ার্ড। বল যাচ্ছিল জালের দিকে; শেষ মুহূর্তে এসে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার আনিশা রাই। দ্বিতীয়ার্ধে আরো এক গোল করেন সাগরিকা। উম্মেলা মারমার বাড়ানো বলে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। পাঁচ মিনিট পর ম্যাচে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাগরিকা। জয়নব বিবির মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বলে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে জড়ান বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে আরো এক গোল করেন সাগরিকা। এটি আসরে তিন ম্যাচে সাগরিকার অষ্টম গোল। গত আসরে ভারতের সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সাগরিকার ‘চার গোল:চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

সাগরিকার ‘চার গোল:চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

সাগরিকার ‘চার গোল:চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।