পেকুয়ায় ভূমি দস্যূতা চাঁদাবাজী মামলায় রাশেদ গ্রেফতার হওয়ায় হুমকির মুখে বাদী পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভূমি দস্যূতা চাঁদাবাজী মাটি লুটের মামলায় সাবেক ছাত্র লীগ নেতা সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ায় পর থেকে রাশেদের পিতা একই মামলার পলাতক আসামী নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বাদী পরিবারকে অবিলম্বে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদানের অভিযোগ পাওয়াগেছে। । ২০২৪ সালে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারী পরওয়ানা থাকায়
পেকুয়া থানা পুলিশ রাশেদকে গ্রেফতার করে। সাবেক ছাত্রলীগের নেতা
আটক রাশেদ ও তার পিতা নুর মোহাম্মদ গরু জাহাঙ্গীরের চাঁদাবাজ ও দখলবাজি চক্রের সদস্য। রাশেদকে গ্রেফতার করলেও তার নামে এখনো অপরাধ জগত পরিচালিত হচ্ছে।
আওয়ামীলীগ সরকারের সময় সাধারণ জনগন ও বিএনপি সমর্থিত লোকদের আটকিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কোন বিএনপি সমর্থিত লোক আওয়ামীগের বিরুদ্ধে বা বিএনপি জামায়াতের নেতাদের পক্ষে ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিলে তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করত। নুর মোহাম্মদ গরু জাহাঙ্গীরের রক্ষী বাহিনীর প্রধান হিসাবে কাজ করত।
৫ আগষ্ট পটপরিবর্তন হলে আওয়ামী সমর্থিত দখলবাজ মামলাবাজরা অন্তরালে চলে গেলেও অদৃশ্য শক্তির জোরে চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসী গরুজাহাঙ্গীরের অপরাধ জগতের অন্যতম সহযোগী নুর মোহাম্মদ তার ছেলে সাবেক ছাত্র লীগ নেতা রাশেদ, আনিচ এলাকায় ফিরে এসে পুর্বের ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন বলেন তাদের নেতৃত্বে কয়েকটি দখল বেখলের ঘটনা ঘটিয়েছে। শেখের কিল্লা ঘোনার জয়নালের বতঘর জবর দখলের চেষ্টা, বিভিন্ন জায়গায় গরু জাহাঙ্গীরের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি অ্যাহত রেখেছে বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রাশেদের বিরুদ্ধে বারবাকিয়া টইটং শিলখালীর পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ, বনবিভাগের কর্মকর্তা, ভুমি অফিসে ব্যাপক চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। পিতা পুত্র তিন জনের বিরুদ্ধে দখল বেখলে ভাড়াটে মাস্তান হিসেবে উপস্থিত হয়ে অপরাধ বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ থাকেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
জানাযায়, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আবুবকর, পেকুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আনসারী গং এর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত মালিকানাধীন মেহেরনামা মৌজার প্রায় ২২ কানি জমি নুর মোহাম্মদ, নুর মোহাম্মদের ছেলে রাশেদ, আরিফ মেম্বার ও তার পিতা শাহ আলম পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের প্রকাশ গরু জাহাঙ্গীরের সহযোগীতায় জবর দখল করে মাটি লুট করে নিয়ে প্রজেক্ট প্রতিষ্ঠা করেন। জমি থেকে ৪৫/৫০ ফুট গভীর করে মাটি লুট করে বিক্রি করে। ২০২৪ সালে ভোক্তভোগী পরিবারের পক্ষে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ ও প্রতিরোধ আইন সহ চাঁদাবাজি আইনে মামলা দায়ের করা হয়। সিআর মামলা নং ১২১৯/২৪। মামলাটি আদালত কর্তৃক পিবিআই কক্সবাজারকে তদন্তের নির্দেশ দিলে দীর্ঘ তদন্ত শেষে এমামলার এজাহারনামীয় ৪ জন ছাড়াও যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যূ করে। এমামলায় জাহাঙ্গীর আলম ও আরিফ মেম্বার জেল ভোগের পর জামিনে মুক্তি হয়। অন্য আসামীরা এখনো পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য পেকুয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ খোকন, কাইছার বলেন, রাশেদ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে নুর মোহাম্মদ মামলা আপোষ দিতে হুমকি দিয়ে আসছে। তারা বলেন,
এজমি গুলো দেড়শ বছর ধরে আমাদের দাদার সময় থেকে খতিয়ান ভুক্ত হিসাবে ভোগদখলে আছি। ১৫ বছর পূর্বে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে গরু জাহাঙ্গীরের সহযোগীরা জবর দখল করে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ ও তার পিতা গরু জাহাঙ্গীরের অস্ত্রধারী ক্যডার নুর মোহাম্মদ ও তার ছেলে রাশেদ, আনিচ ওই জায়গাতে সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে দখলদারিত্ব স্থায়ী করে।
ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী হওয়ার পরও নুর মোহাম্মদ গ্রেফতার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রত্যেক পরওয়ানাকৃত আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান।





