| ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পাহাড়ঘেঁষা পেকুয়ায় বিদেশি আমের বাণিজ্যিক বিপ্লব

পাহাড়ঘেঁষা পেকুয়ায় বিদেশি আমের বাণিজ্যিক বিপ্লব

পাহাড়ঘেঁষা পেকুয়ায় বিদেশি আমের বাণিজ্যিক বিপ্লব

রকিবুল হাসান

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী, টৈটং ও বারবাকিয়ার পাহাড়ঘেঁষা জনপদে বইছে বিদেশি আমের সুবাস। এক সময় যেসব দুর্লভ জাতের আম কেবল ইন্টারনেটে বা শৌখিন বাগানিদের ডায়েরিতে দেখা যেত, এখন তা পেকুয়ার দিগন্তজোড়া বাগানে দৃশ্যমান। জাপানের বিশ্বখ্যাত ‘মিয়াজাকি’ থেকে শুরু করে থাইল্যান্ডের ‘কিং অব চাকাপাত’—সবই এখন শোভা পাচ্ছে স্থানীয় চাষিদের বাণিজ্যিক বাগানে। ব্যক্তিগত শখের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই অঞ্চলে এখন গড়ে উঠছে বিশাল সব আম বাগান, যা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা আমূল বদলে দিচ্ছে।

বৈচিত্র্যময় আমের সমারোহ ও পাকার মৌসুম
পেকুয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম হিসেবে পরিচিত জাপানের ‘মিয়াজাকি’ বা ‘সূর্য ডিম’। নজরকাড়া গাঢ় লালচে রঙের এই আমটি সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে পূর্ণতা পায়। এর পাশাপাশি থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় সোনালি রঙের ‘ন্যামডক মাই’ এবং বাঁকা আকৃতির স্বতন্ত্র স্বাদের ‘মহাচানক’ (ব্যানানা ম্যাংগো) আমগুলোও জুলাই-আগস্ট মাসেই বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
আগাম জাত হিসেবে পরিচিত ‘কিং অব চাকাপাত’ জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে পাকতে শুরু করে। আর থাই সবুজ জাত ‘কিউজাই’ কাঁচা ও পাকা—উভয় অবস্থাতেই অত্যন্ত সুস্বাদু, যা পাকবে জুলাই-আগস্ট মাসে। তবে এখানকার কৃষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে বারোমাসি জাত ‘কাটিমন’ (চোকানন)। এটি বছরে একাধিকবার ফলন দেয় বলে সারা বছরই বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে।

এক নজরে আমের ক্যালেন্ডার ও সময়সূচি:
কিং অব চাকাপাত জুলাইয়ের শেষ ভাগে পাকে।
মিয়াজাকি (সূর্য ডিম) জুলাই-আগস্ট মৌসুমে ফলন দেয়।
ন্যামডক মাই ও মহাচানক: বাজারে আসে জুলাই-আগস্ট মাসে।
কিউজাই: জুলাই-আগস্ট (কাঁচা-পাকা দুইভাবেই ভক্ষণযোগ্য)।
কাটিমন: বারোমাসি জাত, যা সারা বছর ফলন দেয়।

মাটির গুণাগুণ ও দেশি জাতের আধিপত্য
পেকুয়ার মাটি বিশেষ করে ‘আম্রপালি’ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। গত এক দশক ধরে এখানে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত সব জাতের সফল চাষ হচ্ছে। স্থানীয় ‘মনে রেখো নার্সারি’র মালিক মনির উদ্দিন জানান, তারা সরাসরি উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রাকযোগে উন্নত মানের চারা সংগ্রহ করে স্থানীয় পর্যায়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে সরবরাহ করছেন। আম্রপালি ছাড়াও হাড়িভাঙ্গা, হিমসাগর, ফজলি, মল্লিকা ও গৌরমতির মতো জনপ্রিয় জাতগুলো এখন পেকুয়ার মাটিতে নিয়মিত ফলছে।

বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্যহাতির উপদ্রব
অমিত সম্ভাবনার মাঝেও চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বন্যহাতির আক্রমণ। স্থানীয় শিলখালী এলাকার ভুক্তভোগী চাষি মোহাম্মদ আরিফ আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বিশাল একটি আম বাগান হাতির আক্রমণে তছনছ হয়ে গেছে। বন বিভাগ বনাঞ্চলে আকাশমণি বা ইউক্যালিপটাসের মতো এমন সব গাছ লাগাচ্ছে যা হাতি খায় না। ফলে খাদ্যের সন্ধানে হাতিগুলো লোকালয়ে এসে আমাদের কষ্টার্জিত আম বাগান ধ্বংস করছে। বন বিভাগের উচিত বনাঞ্চলে হাতির পছন্দের দেশীয় ফলদ গাছ লাগানো, যাতে আমাদের এই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ রক্ষা পায়।

বাজারে রাসায়নিকযুক্ত ফলের ভীতি দূর করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজ আঙিনায় আম চাষের প্রবণতা বেড়েছে। শিলখালী ইউনিয়নের আলিচান মাতবর পাড়ার উদ্যোক্তা রমিজ উদ্দিন অনলাইনে রাজশাহী ও বগুড়া থেকে চারা সংগ্রহ করে গড়ে তুলেছেন বৈচিত্র্যময় এক বাগান। তিনি বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে আমি পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ ফরমালিনমুক্ত আম নিশ্চিত করতে পারছি। মিয়াজাকি বা চাকাপাতের মতো বিদেশি আমের ফলন এখানে চমৎকার হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও সরকারি কারিগরি সহায়তা পেলে যে কেউ এই লাভজনক চাষে সফল হতে পারেন।”

পেকুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুজার সোহাগ বলেন, এ বছর উপজেলায় বাগান ও বাড়ির আঙিনা মিলিয়ে প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টর প্রতি গড়ে ১২ মেট্রিক টন ফলন আশা করা যাচ্ছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং বন্যহাতির উপদ্রব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বেলাভূমির পক্ষ থেকে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বন্যহাতির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পেকুয়া জেলা ছাড়িয়ে সারা দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ম্যাঙ্গো হাব বা আম উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়।

মহেশখালীতে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

পাহাড়ঘেঁষা পেকুয়ায় বিদেশি আমের বাণিজ্যিক বিপ্লব

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালীতে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ বহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ( ১৬ এপ্রিল ) বিকালে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চিকনি পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধার ঘোনা গ্রামের মৃত শরীফের পুত্র নুরুচ্ছফা (৩৫), একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), চিকনি পাড়া এলাকার মৃত হাকিম উদ্দিনের পুত্র আজিজুল হক (৩০)।
মহেশখালী থানা থেকে রাত ৯ ঘটিকার সময় পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বদরখালীমুখী একটি অটোরিকশা সিএনজি বিপুল পরিমা দৈশিয় মাদক পাচার হচ্ছে। এমন সংবাদে মহেশখালীর থানার ওসির নির্দেশে কালারমারছড়া পুলিশ বিটের এএস আই মনিরের নেতৃত্বে পুলিশ মহেশখালী কালারমােছড়া সড়কের চিকনি পাড়া এলাকার সড়কের সামনে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে।

এক পর্যায়ে সন্দেহজনক একটি অটোরিকশা থামালে তাতে থাকা তিন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে বস্তা ভর্তি ৪০ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সোলতান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মুক্তি পণ দিয়ে ফিরছে অনেকে

সাগর পথে মালেশিয়াগামী পেকুয়ার ইসহাক -আজগরের ১৫ দিনেও খুঁজ নেই

পাহাড়ঘেঁষা পেকুয়ায় বিদেশি আমের বাণিজ্যিক বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে সাগর পথে মালেশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অনেকে মুক্তি পণ দিয়ে ফিরে এসেছেন।
পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নুরুল কাদেরের ছেলে ইসহাক মিয়া (৩৫) বদিউল আলমের ছেলে আজগর(২২) সহ অনেকে বাড়ী থেকে দালাল চক্রের হাত ধরে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।
পরিবারের দাবী কাউকে না জানিয়ে একই পাড়ার বাসিন্দা সাবেক করিয়ারদ্বিয়ার খায়রুল আমিন, তার প্রতিবেশী ওমর ফারুক পেকুয়া সদরের নন্দীর পাড়ার দলিল আহমেদের ছেলে সিএনজি চালক বাদশা মিয়া নিয়ে গিয়ে নাইক্ষনছড়ির ইমাম শরীফের কাছে দিয়ে দিলে টেকনাফে দিয়ে আসে। ৩ দিনের মত অবস্থান করে বোটে তুলে দেয়া হয়। এর পর থেকে আর কোন প্রকার খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় দালাল চক্রও নিখোঁজদের ব্যপারে কোন তথ্য দিচ্ছে না বলে জানান ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।
ইসহাক মিয়ার মা রহিমা বেগম বলেন, ছেলে ইসহাক মালেশিয়া যাওয়ার কথা ৮ এপ্রিল বিমানের টিকেটও কেটেছে। হঠাৎ জানতে পেরেছেন প্রতিবেশী ওমর ফারুক ও তার ভগ্নিপতি খায়রুল আমিন বোটে করে মালেশিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য টেকনাফ নিয়ে গেছে। তাদের বাড়ীতে গিয়ে ছেলের ফ্লাইটের কথা বলে ফেরত আনতে বলেন। তারা ৩০ হাজার টাকার কথা বললে দিবও বলেছি এরপরও ইসহাককে ফেরত দেয়নি। এক মিনিট কথাও বলতে দেয়নি। ইসহাকের স্ত্রী তছলিমা বলেন, স্বাভাবিকভাবে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য ৮ এপ্রিল ফ্লাইটের কথা ছিল। দালালের খপ্পরে পড়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সাগর পথে চলে যায়। দালালের কাছ থেকে ফেরত আনতে অনেক চেষ্টা করার পরও পারিনি। কি অবস্থায় আছে তাও জানতে পারছিনা।
এদিকে ইসহাক ও আজগরের সাথে
১ এপ্রিল যাওয়ার সময় জসিমের ছেলে ওসমানসহ গেলেও ওসমান টেকনাফ থেকে ফিরে আসে।
মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য খায়রুল আমিন ও ওমর ফারুক ১৫এপ্রিল পেকুয়া উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নাজেম উদ্দিনের ছেলে রকিকে ৫০ হাজার টাকা ও আনোয়ার হোছাইনের ছেলে আনছার উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা মুক্তি পণ আদায় করে দালাল চক্রের জিম্মিদশা থেকে ফেরত এনেছেন।
নাজেম উদ্দিন বাদী হয়ে এরকম একটি অভিযোগ পেকুয়া থানায় দায়ের করা হলে পেকুয়া থানার এএসআই আকতার হোছাইন তদন্ত করছেন বলে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আলম জানান।

মহেশখালী হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

পাহাড়ঘেঁষা পেকুয়ায় বিদেশি আমের বাণিজ্যিক বিপ্লব

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালী উপজেলা হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহফুজুল হক এ সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, রোগীসেবা উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আজমল হুদা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম, মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুস সোলতান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৈকত বডুয়া, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার দিদার আলম, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার আমজাদ হোসেন, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কাইছার হামিদ মনির, উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনছার উল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তারেক রহমান জুয়েল, সাংবাদিক সরওয়ার কামাল, ফারুক ইকবাল’সহ এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্য, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত সদস্যরা হাসপাতাল ১০০ শ্যাযায় উন্নীত করন, নতুন ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মি, নিরাপত্তা কর্মি ও আনচার নিয়োগ’সহ সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।