| ১৭ এপ্রিল ২০২৬

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের রোগীদের জরুরী পরিবহন সেবার দুইটি অ্যাম্বুলেন্সই বর্তমানে বিকল ও মেরামত অযোগ্য অবস্থায় পড়ে থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গাড়ি পাওয়া দুষ্কর হওয়য়ায় রেফার রোগীরা উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছে না।

দূর্গম লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসন বিভাগ সূত্রে জানাযায়, দুটি অ্যাম্বুলেন্সই বর্তমানে অচল। এর মধ্যে একটি গাড়ি গত কয়েকদিন কোনো রকম মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে দুটিই হাসপাতালের গ্যারেজে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স দুটির নম্বর হলো-বান্দরবান ছ-৭১-০০০১ এবং ঢাকা মেট্রো ছ-৭১-১০৬১ এই গাড়ি দুটি যথাক্রমে ১৯৯৭ ও ২০০৯ সালে এই হাসপাতালে সেবা প্রদানের জন্য দেওয়া হয়েছিল।

বান্দরবানের সবচেয়ে জনবহুল উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিই প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা। লামা,আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার কিছু কিছু এলাকার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,এখানে প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ২৫০-৩৫০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০-২০০ জন এবং অন্তবিভাগে ৯০-১০০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এমন জনবহুল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স চালুর দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের আল আমিন জানান, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় দ্রুত গাড়ি পাওয়া খুব কঠিন। অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় সঠিক সময়ে চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে রোগী নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া জানান, তিনি যোগদানের সময় একটি গাড়ি আগে থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। অন্যটি বারবার মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে সেটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।

উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে, একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি প্রেরণ করেছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স বেশ কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। মেকানিকরা জানিয়েছেন এগুলো এখন আর মেরামতযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এখানে দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।”

মহেশখালীতে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালীতে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ বহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ( ১৬ এপ্রিল ) বিকালে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চিকনি পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধার ঘোনা গ্রামের মৃত শরীফের পুত্র নুরুচ্ছফা (৩৫), একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), চিকনি পাড়া এলাকার মৃত হাকিম উদ্দিনের পুত্র আজিজুল হক (৩০)।
মহেশখালী থানা থেকে রাত ৯ ঘটিকার সময় পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বদরখালীমুখী একটি অটোরিকশা সিএনজি বিপুল পরিমা দৈশিয় মাদক পাচার হচ্ছে। এমন সংবাদে মহেশখালীর থানার ওসির নির্দেশে কালারমারছড়া পুলিশ বিটের এএস আই মনিরের নেতৃত্বে পুলিশ মহেশখালী কালারমােছড়া সড়কের চিকনি পাড়া এলাকার সড়কের সামনে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে।

এক পর্যায়ে সন্দেহজনক একটি অটোরিকশা থামালে তাতে থাকা তিন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে বস্তা ভর্তি ৪০ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সোলতান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মুক্তি পণ দিয়ে ফিরছে অনেকে

সাগর পথে মালেশিয়াগামী পেকুয়ার ইসহাক -আজগরের ১৫ দিনেও খুঁজ নেই

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে সাগর পথে মালেশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অনেকে মুক্তি পণ দিয়ে ফিরে এসেছেন।
পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নুরুল কাদেরের ছেলে ইসহাক মিয়া (৩৫) বদিউল আলমের ছেলে আজগর(২২) সহ অনেকে বাড়ী থেকে দালাল চক্রের হাত ধরে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।
পরিবারের দাবী কাউকে না জানিয়ে একই পাড়ার বাসিন্দা সাবেক করিয়ারদ্বিয়ার খায়রুল আমিন, তার প্রতিবেশী ওমর ফারুক পেকুয়া সদরের নন্দীর পাড়ার দলিল আহমেদের ছেলে সিএনজি চালক বাদশা মিয়া নিয়ে গিয়ে নাইক্ষনছড়ির ইমাম শরীফের কাছে দিয়ে দিলে টেকনাফে দিয়ে আসে। ৩ দিনের মত অবস্থান করে বোটে তুলে দেয়া হয়। এর পর থেকে আর কোন প্রকার খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় দালাল চক্রও নিখোঁজদের ব্যপারে কোন তথ্য দিচ্ছে না বলে জানান ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।
ইসহাক মিয়ার মা রহিমা বেগম বলেন, ছেলে ইসহাক মালেশিয়া যাওয়ার কথা ৮ এপ্রিল বিমানের টিকেটও কেটেছে। হঠাৎ জানতে পেরেছেন প্রতিবেশী ওমর ফারুক ও তার ভগ্নিপতি খায়রুল আমিন বোটে করে মালেশিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য টেকনাফ নিয়ে গেছে। তাদের বাড়ীতে গিয়ে ছেলের ফ্লাইটের কথা বলে ফেরত আনতে বলেন। তারা ৩০ হাজার টাকার কথা বললে দিবও বলেছি এরপরও ইসহাককে ফেরত দেয়নি। এক মিনিট কথাও বলতে দেয়নি। ইসহাকের স্ত্রী তছলিমা বলেন, স্বাভাবিকভাবে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য ৮ এপ্রিল ফ্লাইটের কথা ছিল। দালালের খপ্পরে পড়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সাগর পথে চলে যায়। দালালের কাছ থেকে ফেরত আনতে অনেক চেষ্টা করার পরও পারিনি। কি অবস্থায় আছে তাও জানতে পারছিনা।
এদিকে ইসহাক ও আজগরের সাথে
১ এপ্রিল যাওয়ার সময় জসিমের ছেলে ওসমানসহ গেলেও ওসমান টেকনাফ থেকে ফিরে আসে।
মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য খায়রুল আমিন ও ওমর ফারুক ১৫এপ্রিল পেকুয়া উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নাজেম উদ্দিনের ছেলে রকিকে ৫০ হাজার টাকা ও আনোয়ার হোছাইনের ছেলে আনছার উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা মুক্তি পণ আদায় করে দালাল চক্রের জিম্মিদশা থেকে ফেরত এনেছেন।
নাজেম উদ্দিন বাদী হয়ে এরকম একটি অভিযোগ পেকুয়া থানায় দায়ের করা হলে পেকুয়া থানার এএসআই আকতার হোছাইন তদন্ত করছেন বলে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আলম জানান।

মহেশখালী হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালী উপজেলা হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহফুজুল হক এ সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, রোগীসেবা উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আজমল হুদা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম, মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুস সোলতান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৈকত বডুয়া, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার দিদার আলম, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার আমজাদ হোসেন, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কাইছার হামিদ মনির, উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনছার উল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তারেক রহমান জুয়েল, সাংবাদিক সরওয়ার কামাল, ফারুক ইকবাল’সহ এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্য, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত সদস্যরা হাসপাতাল ১০০ শ্যাযায় উন্নীত করন, নতুন ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মি, নিরাপত্তা কর্মি ও আনচার নিয়োগ’সহ সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।