পেকুয়ায় নির্বাচনী পথ সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ পতন পরবর্তী নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিক যাত্রার ঐতিহাসিক মাইলফলক
“ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি সুস্থ সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক দেশ বিনির্মানে ও সকল নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে বিএনপি ৩১ দফা লক্ষ্য উদ্দেশ্য করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন আন্দোলনের চুড়ান্ত রোডম্যাপ করেছিল।”
“মগনামায় অগ্নি কান্ডের শিকার ৭ পরিবারকে নগদ অনুদান”

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ পতন পরবর্তী নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিক যাত্রার ঐতিহাসিক মাইলফলক।

দীর্ঘ ১৬/১৭ বছরের এই স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ বিরোধী গনতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এ গনতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ভোটাধিকারের জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি, সংগ্রাম করেছি। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। ফ্যাসিবাদ আওয়ামী গোষ্ঠী শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছে।
এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী গনতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা হবে। গনতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার, গনতান্ত্রিক অধিকার সহ সকল অধিকার বাস্তবায়ন হবে। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে ২০২৩ সালে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি প্রদান করেছিলাম। আমাদের সকল সংস্কারের মুল উদ্দেশ্য, এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, সমৃদ্ধি এদেশের সকল মানুষের যেন গনতান্ত্রিক সকল অধিকার সংরক্ষিত হয় সেটি হচ্ছে ৩১ দফার মুল উদ্দেশ্য।
আমরা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি, আমাদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর মধ্যে একটি হচ্ছে আমরা সকল কৃষকের জন্য কৃষিকার্ড প্রদান করব। কৃষিকার্ড যার হাতে থাকবে সে কার্ডের মধ্য দিয়ে তারা কৃষিঋন পাবে।কৃষির সমস্ত উপকরণ ন্যায্যমুল্যে তারা পাবে।
বাংলাদেশের সকল নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া তার অধিকার। সকল নাগরিকের চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা স্বাস্থ্যকার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করব। যে স্বাস্থ্যকার্ড যার হাতে থাকবে প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা সে পাবে। সবার জন্য স্বাস্থ্য এটি হচ্ছে আমাদের নীতি। কেউ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বরণ করবে না। আমরা বলছি ফ্যামিলি কার্ড দিব।
ফ্যামিলি কার্ড মানে পরিবার, পরের যিনি মহিলা থাকবেন, মুরুব্বি তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড থাকবে। সেটা যার হাতে থাকবে সে পরিবার প্রতিমাসে ভরনপোষণের জন্য ন্যায্যমুল্যে এবং বিনামূল্যে সেই পরিবারের সকল চাহিদা আমরা চাল,ডাল, সয়াবিনসহ সকল প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করব। আমরা হয়তো প্রাথমিক পর্যায়ে সকল নাগরিকের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে পারব না কিন্তু প্রথম বারেই পঞ্চাশ থেকে এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করব।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) মগনামা মৌলভী পাড়ায় মাওলনা জাফর আহমদ মজিদি এর কবর জিয়ারত করেন। পরে মগনামা ইউনিয়নের ফুলতলা স্টেশনে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নিজ জন্মভূমি পেকুয়ায় দ্বিতীয় দিন মগনামায় নির্বাচনী জনসংযোগ করেন।
এসময় হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জনসংযোগ করেন। পথসভা শেষে সিকদার পাড়ায় সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রয়াত মাহামুদুল করিম এর কবর জিয়ারত করেন।
এরপর বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করে মুহুরীপাড়া, কাজী মার্কেট স্টেশন, কালার পাড়া স্টেশনে পথসভা করেন। পরে তিনি রঙিখালের পূর্বকূল এবাদুল্লাহ পাড়া আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাত করেন। এসময় তিনি ৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরে ধাপে ধাপে সকল পরিবারকে এই সুবিধায় আওতায় আনা হবে।
এছাড়া পুর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী উজানটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করেন এবং কবির আহমদ স্টেশন, করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট স্টেশন, গুদারপাড় স্টেশন, সোনালী বাজার স্টেশনে এবং পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পথ সভায়
যোগ দেন। মগনামা ও উজানটিয়া দুই ইউনিয়নে মোট সাতটি পথ সভায় তিনি অংশ নেন। সর্বশেষ সন্ধ্যায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে পথসভা করেন তিনি।
পথ সভা ও জনসংযোগে জনগনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। প্রিয় নেতাকে দেখতে ও স্বাগত জানাতে সড়কের পাশে অসংখ্য নারী পুরুষ অবস্থান করেন। অনেকে তাদের প্রিয় নেতাকে দেখে আবেগ আপ্লুত হন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী ও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট হাসিনা আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, কক্সবাজার জেলা আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু,
জেলা ওলামাদলের সভাপতি মাও. আলী হাসান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাফায়াত আজিজ রাজু, মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফায়সাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাকের হোসাইন, উজানটিয়া বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম, পেকুয়া সদর পশ্চিম জোন বিএনপির সভাপতি শাহনেওয়াজ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনাফ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামরান জাদিদ মুকুট, যুগ্ম আহবায়ক নুরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ইয়াসিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আহসান উল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল আজিম, আহবায়ক ফরহাদ হোছাইন, তাঁতীদলের আহবায়ক জয়নাল আবেদীন,সদস্য সচিব ইমরুল হাসান ইমু, ছাত্রদলের আহবায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয় সদস্য সচিব আবুল কাসেম নুরী সহ দলীয় নেতাকর্মীরা।









