| ১৭ এপ্রিল ২০২৬

শত শত এজেন্ট ও মাস্টার্স এজেন্টের বিশাল নেটওয়ার্ক

চকরিয়ায় অনলাইন জুয়ার মহামারি আকার ধারণ 

চকরিয়ায় অনলাইন জুয়ার মহামারি আকার ধারণ 

 

মনিরুল আমিন. চকরিয়া 

ওয়ানএক্সবেট,মেলবেট,নগদএইটিএইট,ক্রিকেক্স,জিতবাজ,বেটউইনার, টুয়েন্টিটুবেট,মোস্টবেট, বেটজিলি-র মতো অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলো এখন কক্সবাজারের চকরিয়ার গ্রামগঞ্জে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ১টি পৌরসভা ও ১৮ টি ইউনিয়নে অনলাইন জুয়া ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

স্মার্টফোনের ব্যবহার এখন গ্রামাঞ্চলের গভীরেও ছড়িয়ে পড়েছে,বিশেষত কিশোর ও তরুণদের মধ্যে। গ্রামের যে তরুণদের এক সময় খোলার মাঠে ফুটবল,ক্রিকেট খেলতে দেখা যেত,এখন তাদের বিকালে রাস্তার ধারের টং দোকান,চায়ের স্টলে,মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রেখে,অধিকাংশ সময়ই অনলাইন গেম খেলে।

জুয়ায় আসক্ত উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের সাদ্দাম হোসেন। দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। স্মার্টফোন ব্যবহারের এক পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে,ঝরে পড়েন স্কুল জীবন থেকে। তার মত জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঝরে পড়েছে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। বিপদগামী হয়ে পড়ছে উঠতি বয়সী শত তরুণ,যুবক। আর পরিবার গুলো অর্থনৈতিক ভাবে অনলাইন জুয়ার কারণে দিন দিন নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের রুস্তম আলী চৌধুরী পাড়া এলাকার একজন অভিভাবক জানান, ছেলের অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। ছেলে বিভিন্ন সময় বাহানা দিয়ে টাকা আদায় করে। প্রথমে বুঝতে পারিনি ছেলে অনলাইন জুয়া খেলায় আসক্ত। বিভিন্ন জনের কাছে ছেলে টাকা কর্জ নিয়ে জুয়ায় হেরে লাপাত্তা। এই পর্যন্ত আমার সহায় সম্বল বিক্রি করে দশ লাখ টাকার মত শোধ করেছি। তিনি আরো জানান, ছিকলঘাট বাজারের একজন এজেন্ট অনলাইন জুয়ায় আমার ছেলের ভবিষ্যৎ বিনষ্ট করেছে। চকরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এগুলো বাস্তবায়ন করছেন দুষ্কৃতকারী এজেন্টরা।

গ্রামের যেসব তরুণদের সঙ্গে কথা বলেছি,তাদের অধিকাংশই বলেছেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অথবা পর্নোগ্রাফি সাইটে দেখানো বিভিন্ন অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে তারা এসব জুয়ার সাইটের সন্ধান পেয়েছেন।

বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার ছৈয়দ নুর বলেন,কিস্তির জন্যে জমানো টাকা ছেলে চুরি করে জুয়ায় হেরে ঘরে আসেনা পাঁচ দিন।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০ ধারা অনুযায়ী জুয়ায় অংশ নেওয়া অথবা প্রচারণা করা ফৌজদারি অপরাধ।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জুবাইদুল হক বেলাভূমিকে বলেন,অনলাইন জুয়া এখন মহামারী আকারে জালের মত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এ জুয়ার বিরুদ্ধে এখনই সবাই একযোগে সোচ্চার না হলে ইহা প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি সমাজ, প্রতিটি এলাকা তথা পুরো দেশ ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই আমরা সবাই সচেতন হই,অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করি এবং এ সমস্ত অনলাইন জুয়ার সাইটগুলো বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানাই। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অনলাইনে সবাইকে সচেতন করি এবং প্রতিবাদ জানাই।

আইনি বাঁধা থাকার পরও অনলাইন বেটিং ও জুয়া গ্রামাঞ্চলে তড়িৎ বেগে ছড়িয়ে পড়ছে। এই ডিজিটাল বিপদ দমনে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো আতিকুর রহমান বেলাভূমিকে বলেন,বিগত দুটি আইন-শৃঙ্খলার কমিটির সভায় এ বিষয়েনআলোচনা করা হয়। চকরিয়া থানা ও বিট পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অনলাইন জুয়াড়িদের সনাক্ত এবং এদের আইনের আওতায় আনার জন্য। এছাড়া স্কুল প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন করা এবং এর অপব্যবহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া ও মসজিদের ইমামদের খুৎবায় অনলাইন জুয়ার কুফল সম্পর্কে মুসল্লিদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সচেতন করার জন্য জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

চকরিয়ায় অনলাইন জুয়ার মহামারি আকার ধারণ 

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। ১৭ই এপ্রিল পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং চলমান কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম, মহেশখালী থানার ওসি তদন্ত প্রতুল কুমার সুশীল সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ি প্রকল্প দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহেশখালীতে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

চকরিয়ায় অনলাইন জুয়ার মহামারি আকার ধারণ 

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালীতে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ বহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ( ১৬ এপ্রিল ) বিকালে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চিকনি পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধার ঘোনা গ্রামের মৃত শরীফের পুত্র নুরুচ্ছফা (৩৫), একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), চিকনি পাড়া এলাকার মৃত হাকিম উদ্দিনের পুত্র আজিজুল হক (৩০)।
মহেশখালী থানা থেকে রাত ৯ ঘটিকার সময় পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বদরখালীমুখী একটি অটোরিকশা সিএনজি বিপুল পরিমা দৈশিয় মাদক পাচার হচ্ছে। এমন সংবাদে মহেশখালীর থানার ওসির নির্দেশে কালারমারছড়া পুলিশ বিটের এএস আই মনিরের নেতৃত্বে পুলিশ মহেশখালী কালারমােছড়া সড়কের চিকনি পাড়া এলাকার সড়কের সামনে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে।

এক পর্যায়ে সন্দেহজনক একটি অটোরিকশা থামালে তাতে থাকা তিন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে বস্তা ভর্তি ৪০ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সোলতান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মুক্তি পণ দিয়ে ফিরছে অনেকে

সাগর পথে মালেশিয়াগামী পেকুয়ার ইসহাক -আজগরের ১৫ দিনেও খুঁজ নেই

চকরিয়ায় অনলাইন জুয়ার মহামারি আকার ধারণ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে সাগর পথে মালেশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অনেকে মুক্তি পণ দিয়ে ফিরে এসেছেন।
পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নুরুল কাদেরের ছেলে ইসহাক মিয়া (৩৫) বদিউল আলমের ছেলে আজগর(২২) সহ অনেকে বাড়ী থেকে দালাল চক্রের হাত ধরে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।
পরিবারের দাবী কাউকে না জানিয়ে একই পাড়ার বাসিন্দা সাবেক করিয়ারদ্বিয়ার খায়রুল আমিন, তার প্রতিবেশী ওমর ফারুক পেকুয়া সদরের নন্দীর পাড়ার দলিল আহমেদের ছেলে সিএনজি চালক বাদশা মিয়া নিয়ে গিয়ে নাইক্ষনছড়ির ইমাম শরীফের কাছে দিয়ে দিলে টেকনাফে দিয়ে আসে। ৩ দিনের মত অবস্থান করে বোটে তুলে দেয়া হয়। এর পর থেকে আর কোন প্রকার খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় দালাল চক্রও নিখোঁজদের ব্যপারে কোন তথ্য দিচ্ছে না বলে জানান ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।
ইসহাক মিয়ার মা রহিমা বেগম বলেন, ছেলে ইসহাক মালেশিয়া যাওয়ার কথা ৮ এপ্রিল বিমানের টিকেটও কেটেছে। হঠাৎ জানতে পেরেছেন প্রতিবেশী ওমর ফারুক ও তার ভগ্নিপতি খায়রুল আমিন বোটে করে মালেশিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য টেকনাফ নিয়ে গেছে। তাদের বাড়ীতে গিয়ে ছেলের ফ্লাইটের কথা বলে ফেরত আনতে বলেন। তারা ৩০ হাজার টাকার কথা বললে দিবও বলেছি এরপরও ইসহাককে ফেরত দেয়নি। এক মিনিট কথাও বলতে দেয়নি। ইসহাকের স্ত্রী তছলিমা বলেন, স্বাভাবিকভাবে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য ৮ এপ্রিল ফ্লাইটের কথা ছিল। দালালের খপ্পরে পড়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সাগর পথে চলে যায়। দালালের কাছ থেকে ফেরত আনতে অনেক চেষ্টা করার পরও পারিনি। কি অবস্থায় আছে তাও জানতে পারছিনা।
এদিকে ইসহাক ও আজগরের সাথে
১ এপ্রিল যাওয়ার সময় জসিমের ছেলে ওসমানসহ গেলেও ওসমান টেকনাফ থেকে ফিরে আসে।
মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য খায়রুল আমিন ও ওমর ফারুক ১৫এপ্রিল পেকুয়া উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নাজেম উদ্দিনের ছেলে রকিকে ৫০ হাজার টাকা ও আনোয়ার হোছাইনের ছেলে আনছার উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা মুক্তি পণ আদায় করে দালাল চক্রের জিম্মিদশা থেকে ফেরত এনেছেন।
নাজেম উদ্দিন বাদী হয়ে এরকম একটি অভিযোগ পেকুয়া থানায় দায়ের করা হলে পেকুয়া থানার এএসআই আকতার হোছাইন তদন্ত করছেন বলে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আলম জানান।