শত শত এজেন্ট ও মাস্টার্স এজেন্টের বিশাল নেটওয়ার্ক
চকরিয়ায় অনলাইন জুয়ার মহামারি আকার ধারণ
মনিরুল আমিন. চকরিয়া
ওয়ানএক্সবেট,মেলবেট,নগদএইটিএইট,ক্রিকেক্স,জিতবাজ,বেটউইনার, টুয়েন্টিটুবেট,মোস্টবেট, বেটজিলি-র মতো অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলো এখন কক্সবাজারের চকরিয়ার গ্রামগঞ্জে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ১টি পৌরসভা ও ১৮ টি ইউনিয়নে অনলাইন জুয়া ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্মার্টফোনের ব্যবহার এখন গ্রামাঞ্চলের গভীরেও ছড়িয়ে পড়েছে,বিশেষত কিশোর ও তরুণদের মধ্যে। গ্রামের যে তরুণদের এক সময় খোলার মাঠে ফুটবল,ক্রিকেট খেলতে দেখা যেত,এখন তাদের বিকালে রাস্তার ধারের টং দোকান,চায়ের স্টলে,মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রেখে,অধিকাংশ সময়ই অনলাইন গেম খেলে।
জুয়ায় আসক্ত উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের সাদ্দাম হোসেন। দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। স্মার্টফোন ব্যবহারের এক পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে,ঝরে পড়েন স্কুল জীবন থেকে। তার মত জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঝরে পড়েছে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। বিপদগামী হয়ে পড়ছে উঠতি বয়সী শত তরুণ,যুবক। আর পরিবার গুলো অর্থনৈতিক ভাবে অনলাইন জুয়ার কারণে দিন দিন নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের রুস্তম আলী চৌধুরী পাড়া এলাকার একজন অভিভাবক জানান, ছেলের অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। ছেলে বিভিন্ন সময় বাহানা দিয়ে টাকা আদায় করে। প্রথমে বুঝতে পারিনি ছেলে অনলাইন জুয়া খেলায় আসক্ত। বিভিন্ন জনের কাছে ছেলে টাকা কর্জ নিয়ে জুয়ায় হেরে লাপাত্তা। এই পর্যন্ত আমার সহায় সম্বল বিক্রি করে দশ লাখ টাকার মত শোধ করেছি। তিনি আরো জানান, ছিকলঘাট বাজারের একজন এজেন্ট অনলাইন জুয়ায় আমার ছেলের ভবিষ্যৎ বিনষ্ট করেছে। চকরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এগুলো বাস্তবায়ন করছেন দুষ্কৃতকারী এজেন্টরা।
গ্রামের যেসব তরুণদের সঙ্গে কথা বলেছি,তাদের অধিকাংশই বলেছেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অথবা পর্নোগ্রাফি সাইটে দেখানো বিভিন্ন অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে তারা এসব জুয়ার সাইটের সন্ধান পেয়েছেন।
বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার ছৈয়দ নুর বলেন,কিস্তির জন্যে জমানো টাকা ছেলে চুরি করে জুয়ায় হেরে ঘরে আসেনা পাঁচ দিন।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০ ধারা অনুযায়ী জুয়ায় অংশ নেওয়া অথবা প্রচারণা করা ফৌজদারি অপরাধ।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জুবাইদুল হক বেলাভূমিকে বলেন,অনলাইন জুয়া এখন মহামারী আকারে জালের মত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এ জুয়ার বিরুদ্ধে এখনই সবাই একযোগে সোচ্চার না হলে ইহা প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি সমাজ, প্রতিটি এলাকা তথা পুরো দেশ ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই আমরা সবাই সচেতন হই,অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করি এবং এ সমস্ত অনলাইন জুয়ার সাইটগুলো বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানাই। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অনলাইনে সবাইকে সচেতন করি এবং প্রতিবাদ জানাই।
আইনি বাঁধা থাকার পরও অনলাইন বেটিং ও জুয়া গ্রামাঞ্চলে তড়িৎ বেগে ছড়িয়ে পড়ছে। এই ডিজিটাল বিপদ দমনে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো আতিকুর রহমান বেলাভূমিকে বলেন,বিগত দুটি আইন-শৃঙ্খলার কমিটির সভায় এ বিষয়েনআলোচনা করা হয়। চকরিয়া থানা ও বিট পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অনলাইন জুয়াড়িদের সনাক্ত এবং এদের আইনের আওতায় আনার জন্য। এছাড়া স্কুল প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন করা এবং এর অপব্যবহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া ও মসজিদের ইমামদের খুৎবায় অনলাইন জুয়ার কুফল সম্পর্কে মুসল্লিদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সচেতন করার জন্য জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।










