প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ । ৮:০৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চকরিয়ায় যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও পেকুয়ায় পৃথক আদালত স্থাপনই হতে পারে ভোগান্তির অবসান

অনলাইন ডেস্ক

চকরিয়ায় যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও পেকুয়ায় পৃথক আদালত স্থাপনই হতে পারে ভোগান্তির অবসান

পেকুয়া উপজেলার বয়স ২৪ বছর শেষ হলেও আদালত স্থাপন করা হয়নি।

সিভিল আদালতে ৯হাজার. জুড়িশিয়াল আদালতে ১১ হাজার মামলা. উপজেলা ভিত্তিক বিচারক থাকলেও চকরিয়া আদালতে ৩ উপজেলার জন্য ১ জন.

বাঁশখালী সাতকানিয়া পটিয়ায় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের কার্যক্রম থাকলেও চকরিয়ায় এখনো নেই
বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়া পেকুয়া ও মাতামুহুরির ৯ লক্ষ নাগরিকের বিচারক সুবিধার জন্য চকরিয়া চৌকি আদালত ও সিভিল আদালত এখন ২০ হাজার বিচারাধীন মামলার জটে আবদ্ধ। নিয়মিত ধার্য্য তালিকার মামলার সংখ্যা অধিক হওয়ায় দৈনিক তালিকার মামলা গুলো পরিচালিত করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের অন্যান্য উপজেলা ভিত্তিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক উপজেলার একজন জুডিশিয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট অনুবলে চকরিয়া আদালতে দু জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা সেখানে কখনো একজনও নিয়মিত না থাকায় বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই।
পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার দু যোগ অতিবাহিত হলেও এখনো পেকুয়ায় আদালত স্থাপন করা হয়নি। পেকুয়া উপজেলার দূর্গম এলাকা থেকে চকরিয়ায় গিয়ে অনেক সময় কার্যতালিকার দীর্ঘ লাইনের কারণে মামলার কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব না হলে ফেরত আসতে হচ্ছে।
একটি মামলা দায়ের করতে ২/৩ দিন যাওয়া আসা করতে গিয়ে সময় ব্যায় টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে বলেও ভোক্তভোগীরা জানান। একটি মামলার হাজিরা দিতে দিন অবদি অপেক্ষার পর দৈনিক সময় শেষ হয়ে গেলে বিফলে ফেরত হচ্ছে সেবাপ্রাপ্তিরা।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০০৬ সালে জেলা আদালতের সাথে দূরত্ব সমীকরণ বিধিতে চকরিয়া চৌকি আদালত কক্সবাজার জেলা আদালতের সাথে সমন্বয় করার ঘোষণা দিলেও তদানিন্তন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়ার প্রত্যন্ত এলাকার বিবেচনায় চকরিয়া আদালত বহাল রাখেন। পরে চকরিয়া সিভিল জজ আদালত স্থাপন করা হয়। বর্তমানে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রায় ১১ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সিভিল আদালতে মামলা রয়েছে প্রায় ৯ হাজারের মতো।
পেকুয়া উপজেলার মামলার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও টইটং রাজাখালী মগনামা উজানটিয়ার মানুষ প্রায় ৬০/৬৫ কিলোমিটারের পথ অতিক্রম করে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার কার্যক্রমে অংশ নেন।
পেকুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছাফওয়ানুল করিম বলেন, পেকুয়া উপজেলার লোকজনের ভোগান্তি দূর করতে পেকুয়ায় আদালত স্থাপন করা হোক।
চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক এড মিফতাহ উদ্দিন আহমদ বলেন চকোরিয়া সিভিল জজ আদালত ও জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যে পরিমাণ মামলা রয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ৩ জেলা মিলিয়ে এত মামলা নেই। এছাড়াও পটিয়া, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে যুগ্ম জেলা জজ আদালত থাকলেও চকরিয়ায় এ সুবিধা এখনো দেয়া হয়নি। সচেতন মানুষের বিশ্বাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রদক্ষেপ নিলে তিন চার উপজেলার মানুষের বিচারিক সুবিধা রক্ষা হবে।

প্রিন্ট করুন