মনিরুল আমিন.চকরিয়া
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় উন্নয়ন,জনসম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক,সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় ফাঁসিয়াখালী মহাসড়ক সংলগ্ন ম্যাক্স প্রকল্প কার্যালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স অ্যান্ড টোকিও কনস্ট্রাকশনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রমও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টো। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ম্যাক্স প্রকল্পের ম্যানেজার আহমেদ সুফি। তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সভায় বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব,চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন,চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক,সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী,চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুর রহিম,চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর আলী, হেফাজতুর রহমান চৌধুরী টিপুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও সাংবাদিক এম.আর. মাহমুদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী,জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন,মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। এই বন্দরের সঙ্গে দেশের প্রধান সড়ক নেটওয়ার্কের কার্যকর সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে নির্মিতব্য পোর্ট এক্সেস রোড দেশের বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। তারা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা, প্রশাসনের সমন্বয় এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় জানানো হয়,প্রায় ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনবিশিষ্ট চকরিয়া-মাতারবাড়ী বন্দর সংযোগ সড়কটি মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (এন-১)-এর সঙ্গে যুক্ত করবে। জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হলে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি চকরিয়া, মহেশখালী ও আশপাশের এলাকার শিল্প, বাণিজ্য,পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। তারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে স্থানীয় জনগণ,সাংবাদিক ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভা মাতারবাড়ী বন্দর সংযোগ সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার নতুন বার্তা পৌঁছে দেয়।

অনলাইন ডেস্ক