নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে দায়ের করা মামলার প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে নিতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে মা মেয়েকে মোবাইল কোর্টে ১মাসের সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে।
জানাযায়, টইটং ইউনিয়নের পিয়াজু পাড়ার মঞ্জুর আলমের মেয়ে রেহেনা মোস্তফা রানুর ও পেকুয়া সদরের সরকারী ঘোনা এলাকার মো.শরীফের পূত্র নুরুল আবছারের ওরশজাত কন্যা পরিচয়ের দাবীতে জুবাইদা বেগম চকরিয়া সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পেকুয়া থানা এস.আই পল্লব ঘোষ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব অর্পন করেন।
মামলার বিবরনের জানাযায়, জুবাইদা বেগম তার পিতৃপরিচয়ের জন্য ও সম্পত্তির অংশ বুঝে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করলে প্রথমে মামলার তদন্তভার সহকারী কমিশনার ভূমি পেকুয়াকে দায়িত্ব দিলে তহশীলদার ওই মেয়ে ও তার মায়ের উগ্র আচরণের কারণে মামলা তদন্তে অপারগতা প্রকাশ করেন পরে পেকুয়া থানাকে দায়িত্ব দিলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ওয়ারিশি সনদ জন্ম সনদ উপস্থাপন করতে চাইলে পুলিশের ওপর কয়েকদফা মারমুখী আচরণ করে। পেকুয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে পর পর ৫টি সাধারন ডায়েরী করা হয় পেকুয়া থানায়। সর্বশেষ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে মেয়েটি মাকে সহ গত ৪মার্চ পেকুয়া থানায় উপস্থিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগলাজ করে ওসি সহ পুলিশ সদস্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ করে নিজের কাপড় খুলে মব সৃষ্টি করে ও মহিলা পুলিশের উপর হামলা করে।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আলম বলেন, পেকুয়া থানার সকল পুলিশ সদস্য মা ও মেয়েটির অতিমাত্রার উশৃংখল আচরণ নিবৃত করতে ব্যর্থ হয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিহীত ব্যবস্থার আবেদন করলে তিনি নিজে থানায় উপস্থিত হয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মোবাইল কোর্টে ১মাসের সাজা প্রদান করেন।
তিনি আরো বলেন, মেয়েটিকে অনুরোধ করা হয়েছিল ওয়ারিশি সনদ জন্ম নিবন্ধন উপস্থান করতে না হয় তদন্ত প্রতিবেদনে দেয়া যাবেনা। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে না গেলে আপনি না রাজি দিতে পারবেন এখানে বিশৃংখলার দরকার নেই কিন্তু মেয়েটি কোন কিছু কর্ণপাত না করে অকথ্য ভাষায় গালিগলাজ করতে থাকে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগলাজ করত কয়েকটি নাম্বার ব্লক করা হলেও নতুন নাম্বার থেকে ফোন করে গালিগলাজ করত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মা মেয়েকে আহত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েটি মাসহ থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ থেকে শেষ পর্যন্ত সিসিটিভির ফুটেজ দেখলে বুঝা যাবে মেয়েটি কি অবর্ণনীয় আচরণ করেছে এবং তাদের কেউ আঘাত করেছে কিনা। এছাড়া মেয়েটি নিজে দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে আঘাত প্রাপ্ত হবার চেষ্টা করছে। পুলিশের মামলা দায়েরের এখতিয়ার থাকার পরও ভ্রাম্যমান আদালতের আশ্রয় নেয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন পুলিশের সাথে সরাসরি ঘটনায় নিজেরা কিভাবে মামলা দায়ের করবে তাই মোবাইল কোর্টের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।
তথ্য সূত্রে জানাগেছে ইতিপূর্বে মেয়েটি পেকুয়া সদর ইউনিয়নেও ওয়ারিশি সনদ ও জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। সেখানেও যুক্তিসংগত কোন কাগজপত্র দাখিল করতে পারেনি। কাগজ পত্র ছাড়া গালাগালি করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তুলে ওয়ারিশি সনদ জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে চেয়েছিল।
পেকুয়া সদরে ৬নং ওয়ার্ড় ইউপি সদস্য দিদারুল ইসলাম জানান পেকুয়া সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ একটি জোবাইদা বেগমের একটি অভিযোগের আলোকে তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। বাদী বিবাদী পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে পর্যাপ্ত কাগজপত্র দিতে না পারায় সিদ্ধান্ত হয় ডিএনএ টেষ্ট করে পিতৃপরিচয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। সে মতে একটি সমঝোতা পত্র উভয় স্বাক্ষর করার কথা হয় ইতিমধ্যে মেয়েটি নির্ধারিত তারিখে মব সৃষ্টি করে তার কাছ থেকে জোর পূর্বক স্ট্যাম্প নেয়া হচ্ছে বলে পেকুয়া চৌমুহনীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। পরে তাকে সহ আসামী করে চকরিয়া আদালতে মামলা দায়ের করে। বিষয়টি তিনি সেনা ক্যাম্পে জানালো মেয়েটিকে শতর্ক করেছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই পল্লব ঘোষ বলেন, তদন্তভার পেকুয়া থানায় দিলে সেখানেও মব সৃষ্টি করে তদন্ত প্রতিবেদন নিজের পক্ষে নিতে দফায় দফায় ব্যাপক হট্টগোল করেছে। তার পক্ষে প্রতিবেদন না দিলে বিষ পান করবে ধর্ষণ করেছে বলে মামলা দায়েরের হুমকি সহ গালিগলাজ করায় তার বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৫ দফা জিডি করা হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পিতভাবে হামলা করে মহিলা পুলিশের ৩সদস্যদে আহত করেছে।
জানাযায়,রেহেনা মোস্তফা রানুর সাথে নুরুল আবছারের সাথে ১৯৯৭ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের ৪ মাস পর বিচ্ছেদ শুরু হয়। ৭/০৯/১৯৯৭ ইংরেজী তারিখ ও ১৬/০৯/৯৭ ইং তারিখ চকরিয়া এডভোকেট এ্যাসোসিয়েশনের প্যাডে এডভোকেট হাফেজ আহমদ রেহেনা মোস্তফার পক্ষে নুরুল আবছারকে পুরুষত্বহীন ও গুরুত্বহীন সংসার করতে অক্ষম উল্লেখ করে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন, রেহেনার দেনাপাওনা পরিশোধ করতে অনুরোধ করেন। জোবাইদার মার বিচ্ছেদ যদি ১৯৯৭ সালে শুরু হয় ১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে বিচারের মাধ্যমে পাওনা বুঝে নিয়ে দফারফা হয়ে যায়, মেয়েটির এসএসসির সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম যদি ০১/০৬/২০০৪ ইং হয় তাহলে মেয়েটির পিতা নুরুল আবছার হয় কিভাবে এমন প্রশ্ন ওঠে আসে। এসব বিতর্ক সঠিক সমাধান বা উপযুক্ত কাগজ পত্র দিতে ব্যর্থ হয়ে মেয়েটি কোন মামলার প্রতিবেদন তার পক্ষে নিতে পারেনি। অভিযোগ ওঠেছে যে দপ্তরে মেয়েটি মামলা দায়ের করেছে সে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে এক ধরনের মব সৃষ্টি করেছে মেয়েটি। মেম্বার দিদারুল ইসলাম বলেন, নুরুল আবছারের জীবদ্বশায় কোনদিন মেয়েটি বা তার মা পিতৃপরিচয় নিয়ে কোন দিন আসেনি। রেহেনা ও নুরুল আবছারে আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদের ৫বছর পর জন্ম নেয়া মেয়েটিকে কোন প্রকার বৈধ কাগজ পত্র ছাড়া স্বীকৃতি আমারা বিচারকরা দিতে পারিনি বলে রোষানলে পড়েছি।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মাহবুব বলেন, মেয়েটির বিশৃংখল আচার ব্যবহার যেহেতু আগে থেকে অবগত ছিলাম সেখানে পেকুয়া থানা পুলিশের অনুরোধে গিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেছি আমাকে সহ আক্রমণ করতে চেয়েছে মহিলা পুলিশ তাদের দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে ও আহত হয়েছে বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক