প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১:৩৩ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

চকরিয়ায় মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এমপি’র গাড়ি বহরের ধাক্কায় মর্মান্তিক ভাবে শিশু নিহত

অনলাইন ডেস্ক

আলাউদ্দিন আলো

মহেশখালী–কুতুবদিয়ার নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ কুতুবদিয়া থেকে নেতাকর্মী নিয়ে ফেরার পথে ২২ ফেব্রুয়ারী, রবিবার, বিকাল ৪ঘটিকার সময় চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নে প্রবেশপথ আহমদ কবিরের ঘাটায় পৌঁছালে স্থানীয় এলাকার তেচ্ছাপাড়া নিবাসী প্রবাসী দর্জি আমান উল্লাহর ছেলে খালিদ বিন ওয়ালিদ (৮) নিহত হয়, নিহত শিশু ওয়ালিদ স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসার ২য় শ্রেণির ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় শিশুটি
দৌড়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে এমপির বহরে থাকা পিছনের ৩নং গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষর্দশীরা বলেন ছেলেটি ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে গাড়িটা একটু দাঁড়িয়ে আবারও গাড়ির চাকা শিশুর উপর তুলে দিলে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর যেন নিশ্চিত হয়ে যায়। প্রত্যক্ষ দর্শীদের ধারণা গাড়ীটি দাড়িয়ে থাকলে ছেলেটি মারা যেতনা। লোকজন গাড়ির দিকে তেড়ে গেলেও ঘাতক গাড়ির ড্রাইভার পালিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন এমপির গাড়ি বহরে থাকা গাড়িটা আটকাতে বললে গাড়িটি দ্রুত চলে যায়। একটি ডাম্পার গাড়ি তাদের ধাওয়া দিয়ে বদরখালী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সামনে রাস্তার উপর আড়াআড়ি ভাবে রাস্তা আটকিয়ে দিলে বদরখালী এম এস ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা গেইটে গাড়িটা আটকাতে সক্ষম হয়।

পরে স্থানীয় নাগরিক তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক গাড়িতে থাকা এমপির বেশ কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয় গাড়ি আটকানো ব্যক্তিদের অশালীন গালিগালাজ করতে থাকে। পরে স্থানীয় জনসাধারণ তাদের প্রতি চড়াও হলে ঘটনাস্থলে চকরিয়া থেকে আসা বদরখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহসানুল কাদের চৌধুরী সাব্বির, বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন ও বদরখালী বাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মৌলানা মনজুর উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন।
এতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা পায় এমপির গাড়ি বহরে থাকা ৩নং গাড়িটা।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী নেজাম উদ্দীন জানায় এমপির গাড়ি বহরে থাকা লোক গুলোর গাড়ি এমপি সাহেব থেকে অনেক দুরে ছিলো মনে হয়, আমরা দূর্ঘটনার
সাথে সাথে সামনে পিছনে কোন গাড়ি দেখি নাই, হয়ত তাদের গাড়িটা বহর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন, না হয় এমন দূর্ঘটনা হওয়ার কথা না।
আমরা ঘটনাস্থলে চকরিয়া থেকে আসা আহসানুল কাদের চৌধুরী সাব্বির এর গাড়ি দেখলে উনাকে থামিয়ে বিষয়টি অবগত করি এবং একেই জায়গায় ১৫ দিন আগে আরও একটি দূর্ঘটনা হয় এই বিষয়টিও অবগত করে উনার কাছে আমরা দুই পাশে দু’টি স্পীড বেকার দেওয়ার অনুরোধ করি এবং গাড়িটা ধাওয়া দিয়ে ধরার অনুরোধ করি। পরে আমরাও তাদের কে ধাওয়া দিয়ে ধরে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা আমাদের উপর উল্টো হামলা শুরু করে এবং মারধরও করে আমাদের উপর, আমরা এঘটনার বিচার চাই।
নেজাম উদ্দীন আরও বলেন আমাদের সন্তানকে
ইচ্ছাকৃত ভাবে হত্যা করে পালিয়ে যাবে, আমরা তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা যে ভাবে গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্রসহ আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান
ফেরিঘাট সিএনজি ষ্টেশনে এমপির গাড়িসহ আটকানোর পর তাদের উপর এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে কিছু উত্তেজিত জনতা, বিষয়টি অমানবিক হওয়ায় গাড়ি বহরে থাকা এমপি’র গাড়ি দেখে স্থানীয় সচেতন নাগরিকগণ এগিয়ে এসে গাড়ি গুলো রক্ষা করেন এবং এমপি সাহেব কে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

আমরা বিষয়টি নিয়ে সরজমিনে অনেক লোকজন এর সাথে কথা বলি তারা আমাদের জানান কয়েকটি গাড়ি চকরিয়া আসতেছে দেখে কিছু উত্তেজিত জনতা কয়েকটি গাড়ি আটক করে, উত্তেজিত জনতা বলেন আপনারা একটি শিশুকে গাড়ি ছাপা দিয়ে মেরে চলে আসতেছেন! এটি বলার সাথে সাথে উক্ত বহরের কয়েকটি গাড়ির মধ্যে একটিতে সাংসদ নিজেও আছেন এমনটি দেখতে পেয়ে উনাকে এবং উনার বহরে থাকা মানুষদের উপর যেন হামলা না হয় এমনটা জানান পরে স্থানীয় জনসাধারণ তাদের রক্ষা করে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করে তাদের ছেড়ে দেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনতা একটি গাড়ি আটক করে রাখলেও চকরিয়া থানা পুলিশের আশ্বাসে গাড়িটা চকরিয়া থানার ওসি
উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উত্তেজিত মানুষের চরম ক্ষোভে একজন আমাদের জানান উনি একজন এমপি হয়ে কিভাবে একটা শিশু মেরে পালিয়ে যেতে পারে, উনার কি কোন দায়িত্ব ছিলোনা শিশুটাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে এবং শিশুর পরিবারকে শান্তনা দিতে। তিনি সেটা না করে কি ভাবে মৃত বাচ্চাটিকে না দেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন, আমরা এটার বিচার চাই।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে আমাদের পুলিশ টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে গাড়িটা উদ্ধার করি এবং নিহত শিশুর পরিবারের সাথে কথা বলি, উনারা যদি আইনি কোন পদক্ষেপ নেন তাহলে চকরিয়া থানা ব্যবস্থা নিবে।

প্রিন্ট করুন