প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১:১৩ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২

রাজনৈতিক উত্তরাধিকারসূত্রে সংসদে যারা

অনলাইন ডেস্ক

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশে উত্তরাধিকারসূত্রে রাজনীতিতে আসার চল পুরনো। পূর্বসূরি রাজনীতিক বাবা-মায়ের পথ ধরে তাদের সন্তানদের রাজনীতি, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার নজিরও আছে। এর ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমন কয়েকজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের বাবা-মায়েরাও অতীতে সক্রিয় রাজনীতি করেছেন, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ছিলেন। সারা দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে এমন অন্তত ১৬ জন ভোটের মাধ্যমে জয়ী হয়ে আইন প্রণেতা হিসেবে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই আইন প্রণেতা হয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান। তারেক রহমানের মা বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও একাধিকবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাবা-মায়ের পথ ধরে রাজনীতিতে আসা তারেক রহমান এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে এবং দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নাম প্রায় নিশ্চিত।
ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান। বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে আসা ইশরাক হোসেন এবার প্রথম নির্বাচিত আইনপ্রণেতা হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন।
নাটোর-১ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। তিনিও এবার প্রথমবার ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।
পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। তিনি প্রবীণ আইনজীবী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের পুত্র। বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে আসা নওশাদ জমির প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
এবারের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনিও প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়েছেন। ভোটে তিনি হারিয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামসুর রহমানকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি যশোর-৩ সংসদীয় আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের।
চট্টগ্রাম-৭ সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিম। হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন।
পিরোজপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির ও একই দলের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর হোসেন।
ময়মনসিংহ-৯ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন। তার বাবা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং এই আসনে ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ভোটে হারিয়েছেন জামায়াত-সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চানকে।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তার বাবা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বিএনপি-দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। এবারের নির্বাচনে মীর হেলালের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। তার বাবা আব্দুল্লাহ আল নোমান বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাঈদ আল নোমান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো আইনপ্রণেতা হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন।
গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র আব্দুল মান্নানের ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি এবার প্রথম সংসদে যাচ্ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান।
এবারের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নূরের চেয়ে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। আফরোজা খানম রিতার বাবা বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা হারুন-অর-রশিদ খান মুন্নু বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। আফরোজা খানম রিতা প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন মইনুল ইসলাম খান শান্ত। তিনি বিএনপির সাবেক শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়ার সন্তান। মইনুল ইসলাম খান দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের সালাউদ্দিন আহমেদ।
ফরিদপুর-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি বিএনপির(ফরিদপুর বিভাগীয়) সাংগঠনিক সম্পাদক। শামা ওবায়েদের বাবা প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপির মহাসচিব, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। শামা ওবায়েদ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবারই প্রথম সংসদে যাওয়া হচ্ছে তার। নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মো. আকরাম আলী (রিকশা প্রতীক)।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনিও প্রথমবারের মতো আইনপ্রণেতা হয়েছেন। নায়াব ইউসুফের বাবা প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনে নায়াব ইউসুফের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব (দাঁড়িপাল্লা)।

প্রিন্ট করুন