ডেস্ক রিপোর্ট
ভৈরবের সিগনাল পয়েন্টে ট্রেনের বগ বগি লাইনচ্যুতির ফলে ৮ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালী রুটে ট্রেন চলাচল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আজ ২৭ জানুয়ারি বেলা ১২টায় ভৈরবে আটকে থাকা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এর আগে ২৬ জানুয়ারি সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) এর একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে রাত সাড়ে তিনটা থেকে সকাল ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এ ঘটনায় লাইনম্যানের গাফিলতি দেখছে রেলওয়ে কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে তদন্তের জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার কামরুজ্জামান (ডিআরএম)।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানান, ২৬ জানুয়ারি রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে (চট্টগ্রাম মেইল) ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেন। রাত ২টা ৪০ মিনিটে ভৈরবে পৌঁছালে ৪০ মিনিট পর ৩টা ২০ মিনিটে ভৈরব থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। স্টেশনের অদূরে কয়েক মিনিট যেতে না যেতেই সিগন্যাল পয়েন্টে ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে চার নাম্বার বগির সামনের দুইটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।
৮ ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন ও ঢাকাগামী এগারো সিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেন ভৈরবে আটকে থাকে। অপর দিকে কুলিয়ারচর স্টেশনে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন, নরসিংদীর দৌলতকান্দিতে সিলেটগামী পারবত এক্সপ্রেস ট্রেন, চট্রগ্রামগামী সোনারবাংল এক্সপ্রেস ট্রেন খানা বাড়িতে ও ব্রহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তুর্ণা নিশিতা ও তিতাস কমিউটার ট্রেন আটকে রয়েছে।
অপরদিকে রেলওয়ে কতৃপক্ষ ৩৫ নং তিতাস কমিউটার ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু ঢাকা সকালের যাএা বাতিল ঘোষণা করেছে।
রেলওয়ের আরেকটি সূত্র থেকে জানায়, অপারেটের সিস্টেম থেকে অনলাইনে ক্রসিং লাইনে কোন সিগন্যাল যায়নি। এটি পয়েন্ট ম্যানের কাজ ছিল। তবে কি কারণে ত্রুটি হয়েছে এটি তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।
বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার কামরুজ্জামান (ডিআরএম) বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। সকাল ৮টায় আখাউড়া থেকে আসা রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ করা হয়েছে।৷ দীর্ঘ ৮ ঘন্টাপর ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে সিঙ্গেল লাইন চালু করে আপাতত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক ভাবে জেনছি রেলওয়ে পয়েন্ট ম্যানে গাফিলতি রয়েছে। ভুলভাবে পয়েন্ট সেট করে সিগন্যাল দেয়ার কারণে দূর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিক ভাবে জেনেছি বলেই আমরা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এই ঘটনার সাথে রেলওয়ের অন্য কেউ কারো গাফলতি আছে কিনা এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

অনলাইন ডেস্ক