সরওয়ার কামাল মহেশখালী
পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে আবারও প্রবাসে ফিরেছিলেন মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় চারতলা ভবন থেকে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মুন্সির ডেইল গ্রামের এই তরুণ প্রবাসী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত চারতলা থেকে নিচে পড়ে যান শহিদুল্লাহ। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, দেশে ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরবে ফেরার এক বছরও পূর্ণ হয়নি তার। অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে করেছিলেন তিনি। নতুন সংসারের দায়ভার, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণ এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ জেনেও প্রবাসে ফিরে যান শহিদুল্লাহ। রেমিট্যান্সের টাকায় ঘর মেরামত, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করার স্বপ্ন ছিল তার।
গ্রামবাসীরা জানান, শহিদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী যুবক। এলাকায় তার কোনো শত্রু ছিল না। নিজের কষ্ট বা প্রবাসের কঠিন বাস্তবতা পরিবারের কাছে কখনো প্রকাশ করতেন না। ফোনে কথা হলে বরং পরিবারকে সাহস দিতেন এবং শিগগিরই দেশে ফিরে সুন্দরভাবে সংসার গড়ার কথা বলতেন।
নিহতের বাবা মরহুম সোলতান আহমদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্বজনদের। সদ্যবিবাহিত স্ত্রী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কখনো কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, কখনো নির্বাক হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এই শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
খবরটি গ্রামে পৌঁছানোর পর মুন্সির ডেইল গ্রামজুড়ে নেমে আসে গভীর নীরবতা। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী শহিদুল্লাহর পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন সমবেদনা জানাতে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ আরও জোরদার করা জরুরি। শহিদুল্লাহর মতো অসংখ্য তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। অথচ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালে পরিবারগুলো পড়ে যায় চরম অনিশ্চয়তায়।
শহিদুল্লাহর অকালমৃত্যু আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—রেমিট্যান্সের পেছনে কতটা ত্যাগ, ঝুঁকি আর নীরব কষ্ট লুকিয়ে থাকে। চারতলা নিচে পড়ে থেমে যাওয়া এই তরুণ প্রবাসীর জীবন আজ শুধু একটি মৃত্যু সংবাদ নয়, বরং প্রবাসী শ্রমিকদের অবহেলিত বাস্তবতার করুণ প্রতিচ্ছবি।

অনলাইন ডেস্ক