প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫ । ১২:৪৪ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

পেকুয়া লাশ দাফনে বাধা, দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ক্রয়কৃত বসত ভিটা রেজিস্ট্রি না দেয়ার জের ধরে লাশ দাফনে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর ১টায় উপজেলার রাবাকিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বারাইয়াকাটা এলায়কার রশিদ আহমদ মারাগেলে তার ভাই মৃত ফিরোজ আহমেদের ছেলে জসিম উদ্দিন চাচার কাছ থেকে ৩ বছর পূর্বে ক্রয় করা বসতবিটা রেজিষ্ট্রেশন করে না দেয়ার দাবীতে মরদেহ দাফনে বাঁধা প্রদান করেন। এসময় দু’পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে আহত হন, মৃত ফিরোজ আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৮), আবুল কাশেম (২৮) ও জসিম উদ্দিনের স্ত্রী নাঈমা সোলতানা (২২)। আহতদের পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পেকুয় থানা পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
পরে এলাকাবাসীর মধ্যস্ততায় লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় ফাঁশিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা মাটে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ওই এলাকার রশিদ আহমেদের কাছ থেকে আপন ভাই মৃত ফিরোজ আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিন গং ঘরসহ বসতবাড়ি ক্রয় করে নেয়। ক্রয়কৃত জায়গায় রেজিস্ট্রি দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া না দেয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
গতকাল সকালে রশিদ আহমদ(৭০) চট্রগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। তবে রশিদ আহমদ মারা যাওয়ার আগে দু’পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার সালিসি বৈঠক হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন সম্প্রতি রশিদ আহমেদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মো: নুরুন্নবী দেশে ফিরে এসে বিক্রিত বসত ভিটা বি
রেজিস্ট্রি দিতে তাঁর পিতাকে বাঁধা দেন। এনিয়ে আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাইদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এর জের ধরেই সোমবার দুপুরে বারাইয়াকাটা মসজিদের সামনে রশিদ আহমদের দাফনে বাঁধা দিলে এঘটনা সংঘটিত হয়।
আহত জসিম উদ্দিন বলেন, চাচা মারা যাওয়া খবর পেয়ে আমরা স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে কিভাবে ক্রয়কৃত জমিটি পাওয় যায়, এবিষয়ে কথা বলছিলাম। প্রতিমধ্যে মো. নুরুন্নবী সহ ৭/৮ এসে আমাদের সাথে কথাকাটাটির মধ্য ভাগবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে মো. নুরুন্নবী হাতে থাকা চুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। আমাকে বাঁচাতে ছোট ভাই এগিয়ে আসলে ফরহাদ, রিফাত, সোয়াইব ও জোনাইদ ছোটভাইকে বেধড়ক মারধর ও চুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আহত আবুল কাশেম বলেন, হামলাকারীরা আমার
মেবাইল ও নগদ দেড়লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এদিকে মৃত রশিদ আহমদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. নুরুন্নবী বলেন, বিরোধীয় জমির বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। আজকে আমার বাবার লাশ দাফনে বাঁধা সৃষ্টি করেছে। লাশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। আমাদের ঘরে ঢুকে হামলার চেষ্টা চালিয়ে ছিল। তাঁদের হামলা আমাদের পরিবারে দুজন আহত হয়েছে।
পেকুয়া থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা সিরাজুল মোস্তাফা জানান, বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়াকাটায় পাওনা টাকা ও বসত বাড়ি বিরোধের জেরে একটি লাশ দাফনে বাঁধা দিয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এখনো কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

প্রিন্ট করুন