প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ । ১১:৩৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

পেকুয়ার মগনামায় এসিল্যান্ডের অভিবাসন বিচার নিয়ে ইউপি সদস্যদের হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত গত ১বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় সহকারী কমিশনার ভূমি নুর পেয়ারা বেগমকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি গ্রাম আদালতের কোন কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করেননি। নিয়মিত প্যানেল বোর্ডও আওয়ামীলীগ সমর্থিত হওয়ায় গ্রাম আদালত অকার্যকর রয়েছে। ১৫সেপ্টম্বর দুপুর ১২টার দিকে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতের এজলাসে পরিষদের প্রশাসক নুর পেয়ারা বেগম অভিবাসন নিয়ে কাজ করে ঋওখগঝ৪চঊঅঈঊ ঋঙটঘউঅঞওঙঘ এর কাছে নালিশকৃত একটি অভিবাসন বিরোধ নিস্পত্তির জন্য বসলে ইউপি সদস্যদের না জানানোকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি সদস্যরা সরাসরি বিচার কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে তাদের কোন প্রকার না জানিয়ে হঠাৎ বিচার আয়োজন করায় আক্রোশ প্রকাশ করলে এসিল্যান্ড তড়িগড়ি করে বিচার কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করে চলে আসেন। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা ফিল্মসফোরপিচ ফাউন্ডেশনের চকরিয়া পেকুয়া কো অর্ডিনেটর রাহাত ও শিলখালী ইউনিয়ন জিএমসির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা কমর উদ্দিনকে ঘিরে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। তাদের অভিযোগ এসিল্যান্ড নুর পেয়ারা বেগমকে ১বছর ধরে প্রশাসক নিয়োগ করলেও তিনি একটি বিচারও করেননি। এখন চকরিয়ার একটি বিচার কাউকে না জানিয়ে এমনকি বিবাদী ৯নং ওয়ার্ড়ের বাসিন্দা হলেও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেমকে পর্যন্ত অবগত না করে পরিষদের এজলাসে বিচারের আয়োজন করেন।
জানাযায়, চকরিয়ার সাহারবিলের দেলোয়ার হোসেন কর্তৃক পেকুয়া উপজেলার মগনামা ৯নং ওয়ার্ড়ের আবু তালেবের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন। এ বিরোধটি নিস্পত্তির জন্য উপজেলা জিএমসি সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মইনুল হোসেনে চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করলে ইউএনও মগনামা ইউনিয়নের প্রশাসক নুর পেয়ারা বেগমকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
দায়িত্ব প্রাপ্ত এনজিও প্রতিনিধি রাহাত বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার পর পূর্ব থেকে যথাযথ যোগাযোগ করে সালিশের আয়োজন করতে মগনামা ই্উনিয়ন পরিষদের প্রাশাসক ও সচিবকে বলা হয়েছে তাদের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বাদী বিবাদীকে নিয়ে সালিশে বসা হয়েছে। কাউকে না ডেকে থাকলে সেটি পরিষদের ব্যাপার। এব্যাপারে মগনামা ইউপি সচিব আবদুররাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসক মহোদয় পূর্ব থেকে তাকে অবগত করেননি। এনজিও প্রতিনিধি ফোন করেছিলেন একটি অনুষ্ঠানের কথা বলে বিচারের কথা তাকে কেউ বলেননি।
মগনামা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান-১ বদিউল আলম বলেন, ১বছরধরে পরিষদে কোন প্রকার গ্রাম আদালত বসছেনা। মেম্বাররা যতটুকু পারছেন স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় বিচার সালিশ করতেছেন। গ্রাম আদালত বসিয়ে বিচার করা সম্ভব হয়নি সেক্ষেত্রে হঠাৎ করে ভিন্ন উপজেলার একটি বিষয় নিয়ে বিচারের আয়োজন করায় সবার মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ৯নং ওয়ার্ড় সদস্য আবুল কাশেম বলেন, হাজার হাজার মানুষ বিচার বঞ্চিত থাকলেও প্রশাসক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এখন হঠাৎ বিচার করায় লোকজনের কাছে মেম্বাররা প্রশ্ন বিদ্দ হয়ে পড়েছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার ভূমি নুর পেয়ারা বেগম সুস্পষ্ট প্রমান না থাকায় উক্ত সালিশ কমিটির সমন্বয়ক রাহাতকে বাদীকে উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হতে পরামর্শ দিতে নির্দেশ দেন। এব্যাপারে এসিল্যান্ড নুর পেয়ারা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রিন্ট করুন