পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়নের জারুল বুনিয়ায় নিজ বসতঘরে দূর্বৃত্বের হাতে নৃশংস হত্যা কান্ডের ঘটনায় নিরপরাধ লোকজনকে আসামী করে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এলাকাসী মানব বন্ধন করেছে। ১৩ আগষ্ট বিকাল ৫টায় শিলখালী ইউনিয়নের সাপের ঘারা ষ্টেশনে শত শত নারী পূরুষ এ মানব বন্ধনে অংশ গ্রহণ করে রাতের আধারে জসিম উদ্দিন জুল্লুককে হত্যার দায়ে গ্রেফতারকৃত জহিরুল ইসলাম ও মনসুর আলমকে নির্দোষ দাবী করে তাদের মুক্তি কামনা করেন। প্রসঙ্গত ৯ আগষ্ট দিবাগত রাত ১টার দিকে জসিম উদ্দিন প্রকাশ জুল্লুক নিজ বসতঘরে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তার স্ত্রী সেলিনা আকতার বলেন, বসতঘরের লগোয়া মুরগীর খামারে অতিরিক্ত আওয়াজ শুনতে পেয়ে রান্নাঘরের দরজা দিয়ে মুরগীর খামারে যেতে দরজা খুলতে দুজন মুখোশধারী লোক ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে মেরে ফেলে। তিনি পাশের বাড়ীর লোককে ডাকতে গেলে এসে দেখে তার স্বামীকে ঘরের বাইরে লাকড়ির স্তুপে ফেলে হত্যাকারীরা চলে গেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ও উপস্থিত লোকজনকে তিনি দুজন ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বুঝে তাদের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়রা বলেন, জসিম উদ্দিন হত্যার ঘটনা পেকুয়া থানা পুলিশকে অবগত করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে জসিম উদ্দিনের স্ত্রীর কাছে ঘটনার বিবরণ শুনেন। ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মনসুর আলম ও জহিরুল ইসলামকে আটক করে। ১০অক্টোবর নিহত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সেলিনা আকতার বাদী হয়ে জহির ও মনসুরের নাম উল্লেখ করে ৮জনকে অজ্ঞাত আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী সেলিনার ভাষ্যমতে হত্যাকারীরা তার ছেলে মালেশিয়া প্রবাসী ইফতেখারের প্রেমিকা মনসুরের মেয়ে উর্মিকে তারা মেনে না নেয়ায় তার স্বামীকে হত্যা করেছে। আটক জহিরুল ইসলাম উর্মির নানা। তিনি আরো বলেন, হত্যাকারী তার বসতঘর থেকে একটা জিনিসও নিয়ে যায়নি। পরিকল্পিত ভাবে তার স্বামীকে হত্যা করেছে। নিহত জসিমের আত্মীয়রা বলেন, উর্মি বর্তমানে হারবাং ইফতেখারের খালার বাড়ীতে ইফতেখারের তত্বাবধানে রয়েছে। মানব বন্ধনে অংশ নিয়ে মুন্নি আকতার নামক জসিমউদ্দিনের প্রতিবেশী বলেন, নিহত জসিম উদ্দিন নিতান্ত ভদ্র নামাজি মানুষ। তার স্ত্রী ও একই এলাকার পলাতক হত্যা মামলার আসামী আবদুর রজ্জাকের পরকিয়ার বলি হয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন। হত্যার ৫দিন আগে আবদুর রজ্জাক ও তার স্ত্রী সেলিনাকে অনৈতিক কাজে লীপ্ত অবস্থায় দেখে রজ্জাককে তার ঘরে না আসতে নিষেধ করে ও স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে যা এলাকার সবাই জানে। সে সময় রজ্জাক জসিমকে দেখে নেয়ার হুমকিও দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেশী আরেক মহিলা আয়েশা বলেন, জসিম হত্যা মামলায় আটক জহির ও মনসুর নিরপরাধ তাদেরকে জসিমের স্ত্রী ষড়যন্ত্র করে ফাসিয়েছে। একপর্যায়ে শত শত নারী পুরুষ জহির ও মনসুর নিরপরাধ তাদের মুক্তির দাবীতে ¯েøাগান দিতে থাকে। মানব বন্ধনে এলাকার লোকজন ছাড়াও আটক মনসুর ও জহিরের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে তাদের নির্দোষ দাবী করে মক্তি চান। এলাকার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মনসুর ও জহির হত্যার মতো ঘটনা ঘটালে তারা নিশ্চয় এলাকা ছেড়ে চলে যেতো তাদেরকে মসজিদ থেকে বের হতে পুলিশ ধরেছে। তারা এ হত্যা কান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক