ছাত্র দলের সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন নাসিরের পেইচবুক ওয়াল থেকে
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাসে এক জীবন্ত ক্ষত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইমরান।
নাসির উদ্দিন নাসিরের পেইচবুক পোস্ট থেকে
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাসে এক জীবন্ত ক্ষত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইমরান। ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে আমার পাশে দাড়িয়ে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সাথে লড়াই করতে করতে গুলিবিদ্ধ হয়ে থেমে গিয়েছিল তার তরুণ জীবন, স্বপ্ন, স্বাভাবিক হাঁটা, হাসি আর আগামীর সব পরিকল্পনা। আজ ১৭ মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ইমরান এখনও হাসপাতালের বিছানায় বন্দি।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ২৫ বার অপারেশন হয়েছে, কিন্তু ভাগ্য যেন এখনও নিষ্ঠুর। কোনো অগ্রগতি হয়নি, শুধু বেড়েছে যন্ত্রণার গভীরতা। শেষ আশায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাকে থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। ইমরান তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছে, প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার জন্য এক একটি যুদ্ধ। আজও ইমরান তীব্র ব্যথায় কাতরায়, প্রতিটি নিশ্বাস যেন তার জন্য এক একটি কষ্টের সাক্ষ্য। যে ছেলেটি একদিন মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখত, বন্ধুদের সঙ্গে হাসত, রাজপথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলত, আজ সে নিঃশব্দে সহ্য করছে অসহনীয় যন্ত্রণা।
শুধু শরীর নয়, মানসিক অবসাদেও পিষ্ট হয়ে পড়েছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের এই তরুণ যোদ্ধা।গুলির আঘাত তার শরীরকে পঙ্গু করেছে, আর দীর্ঘ ১৭ মাসের হাসপাতাল জীবন ধীরে ধীরে ভেঙে দিয়েছে মনোবলকেও।
আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই, ইমরানের জন্য আরও উন্নত ও কার্যকর চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি।
জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান কোনো একক ঘটনার ফল নয়; এর পেছনে রয়েছে ইমরানের মতো অসংখ্য ছাত্রদল নেতাকর্মীর রক্ত, পঙ্গুত্ব, নিঃশেষ হয়ে যাওয়া তারুণ্য। আল্লাহ যেন সবাইকে শক্তি দেন, আহতদের সুস্থতা দান করেন এবং এই ত্যাগকে ব্যর্থ হতে না দেন। আমিন।।















