| ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পেকুয়ায় লবণ চাষিদের ১৫ দফা দাবিতে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত 

পেকুয়ায় লবণ চাষিদের ১৫ দফা দাবিতে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত 

সিনিয়র প্রতিবেদক, বেলাভূমি :

লবণ শিল্প রক্ষায় চাষিদের ১৫ দফা দাবিতে কক্সবাজারের পেকুয়ায় রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎জনসমাবেশে বক্তারা বলেন,কক্সবাজারে অধিকাংশ মানুষ লবণ শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত। গত কয়েক বছর ধরে লবণের ভয়াবহ দরপতন পতনের কারণে অনেকই পেশা পরিবর্তন করছেন। প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতি মণ মাত্র ২শ টাকা।

‎সমস্যা সমাধানে মৌসুমের আগেই সরকার কর্তৃক লবণের দাম নির্ধারন সিন্ডিকেট মুক্ত লবণ বিক্রির পরিবেশ সহ ১৫ দফা দাবি জানান বক্তারা।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও লবণ, মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে উপকূলের লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা যেভাবে হুমকির মুখে পড়েছে আগামীতে লবণ চাষি ও জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে বিশাল এ জনগোষ্ঠী। এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও নদীর পানি দূষণের মাত্রা অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে ইলিশ ও বিভিন্ন প্রজাতের সামুদ্রিক মাছ কমে যাওয়ায় ইলিশের ভরা মৌসুমে সাগরে গত কয়েক বছর ধরে জেলেরা ন্যদিকে লবণ চাষ যোগ্য জমিতে শিল্প কারখানা গড়ে উঠার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ফলে  উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চাষিরা লবণ উৎপাদনে নিরুৎসাহি হয়ে পড়ায় লবণ চাষিদের জীবন জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। চাষিদের উৎপাদিত লবণ বাজারে আসার আগেই আমদানিকৃত লবণ বাজার দখল করে নেয়।

‎এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষে লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি ।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ) বিকেল ৩ টায় পেকুয়া উপজেলা  মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে  ও সদস্য দেলওয়ার হোসাইন এবং পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মুজিব হক চৌধুরী সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খোকন মিয়া, পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা এর সভাপতি ও মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম শেখ, ধরা কক্সবাজার এর সহ সভাপতি ফরিদুল আলম শাহিন,পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মঞ্জু, চুনতি রক্ষায় আমরা এর সভাপতি সানজিদা রহমান,বরগুনা জেলা ধরার সদস্য সচিব,মুশফিক আরিফ, হাওর রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি, তোফাজ্জল সোহেল, মৌলভী বাজার ধরার আহবায়ক এমএ সালেহ সোহেল, নারী নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জিনু,রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম এম জাফর, জাকের হোসেন,লবণ চাষি আবদুল হালিম, আবদুল জব্বার, নেজাম উদ্দিন প্রমূখ।

‎এসময় পেকুয়া, বাঁশখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে লবণ চাষি,জেলে ও সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে যখন

পেকুয়ায় লবণ চাষিদের ১৫ দফা দাবিতে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেওয়ার পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পুলিশ পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত সহায়তামূলক ভূমিকায় সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠে মোতায়েন থাকবে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় আয়োজিত ‘সিএএস দরবার’-এ সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশে কর্মরত সদস্যদের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, “কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে সেনাবাহিনী যে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে, তা দেশের মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।”

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশ ও জনগণ সেনাবাহিনীর এই সেবাকে স্মরণ রাখবে।”

সেনাপ্রধান জানান, সংবিধান ও বেসামরিক প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেনাবাহিনী স্বাভাবিক নিয়মে ব্যারাকে ফিরে যাবে। তবে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।” তিনি সেনাসদস্যদের ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭% জামায়াত ৩১.৭৬% এনসিপি ৩.০৩% ভোট পেয়েছে

পেকুয়ায় লবণ চাষিদের ১৫ দফা দাবিতে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত 

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ২৯০ আসনে দলীয় প্রার্থী ছিল।
    ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। তাদের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে।
  • আজ রোববার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার সাংবাদিকদের জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের হারে তৃতীয় অবস্থানে আছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়ে তারা পেয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট। এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করেছে।
    গত তিন সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তারা লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট।
    এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। হাতপাখা প্রতীকে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
    ১১-দলীয় ঐক্যে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
    অন্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে আছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য।

মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মেলা শুরু রবিবার

পেকুয়ায় লবণ চাষিদের ১৫ দফা দাবিতে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত 

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালী উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দিরের শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও আদিনাথ মেলা শুরু রবিবার থেকে।

শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে মহেশখালীর মৈনাক পাহাড়ের পাদদেশে বসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলনমেলা। শুধু সনাতনী সম্প্রদায়ই নয়, এই মিলনমেলায় সামিল হন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নর-নারী। প্রায় দুইশ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে “আদিনাথ মেলা” নামে পরিচিত এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন প্রতি বছর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও জাঁকজমকের সাথে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
প্রতি বছর শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটানসহ কয়েকটি দেশ থেকে হাজার হাজার পূজারী ও পর্যটক এসে জমায়েত হন। ফাল্গুন মাসের শুরুতে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে দেবাদিদেব শিবের আশীর্বাদ লাভের আশায় হিন্দু তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শিব দর্শন ও পূজা করে থাকেন।
ইতোমধ্যে এই মেলায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূজারী ও পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন আদিনাথ মন্দিরে। পূজারী আর পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে আদিনাথের মৈনাক পাহাড়ের চূড়া। বসেছে হরেক রকমের মেলার দোকান।
শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দে (কাউন্সিলর) বলেন, “প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সুশৃঙ্খলভাবে পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে। পূজারী ও ভক্তবৃন্দদের জন্য থাকার সু-ব্যবস্থা থাকবে। সাত দিনব্যাপী এই মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছে।”

মহেশখালী থানা ওসি মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, “আদিনাথ মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাননীয় পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় মহেশখালী থানা পুলিশের বিশেষ একটি টিম সর্বক্ষণিক টহলে থাকবে। মেলায় আগত পূজারী, ভক্ত ও অনুরাগীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
সাতদিন ব্যাপী এই মেলা আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মহেশখালীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।