| ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

দেলওয়ার হোসাইন, সিনিয়র প্রতিবেদক, বেলাভূমি:

‎বাংলাদেশে সম্প্রতি বছরগুলোতে আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্পভিত্তিক ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য বেশ জোরেসোরে জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ভৌতঅবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উদ্দ্যেশ্য করে সরকার আমদানী নির্ভর কয়লা, প্রাকৃতিক তরল গ্যাস ও জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক প্রকল্পগুলোর উপর গুরুত্বারোপ করছে। জ্বালানি খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারনে প্রায়শই জীব বৈচিত্র ধংস হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিদেশী বিনিয়োগকে আকর্ষণ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি প্রকল্পগুলো স্থানীয় শিল্প যেমন খামার, মৎস্য চাষ, লবণ উৎপাদন ইত্যাদীর ক্ষতি করছে। জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকী এবং অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা সরকারকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলছে। আমদানী করা জ্বালানির উপর নির্ভরতার ফলে বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে ও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে। উন্নয়নকে পরিবেশগত ন্যায্যতা এবং অর্থনীতি ও পরিবেশের দ্বন্দ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পরিবেশ-সচেতন জ্বালানি রূপান্তর এখনই জরুরি। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে থাকতে হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। দ্রুত জ্বালানি রূপান্তরের জন্য যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে তাদের কণ্ঠস্বরকে জোরদার করতে ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট)  বিকেল ৩ টায় চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, থ্রিফিফটিডটওআরজি ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে “জ্বালানি সম্প্রসারণ: বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও ন্যায্য রূপান্তরে এর প্রভাব” শীর্ষক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন আয়োজন করে।

ক্লাইমেট অ্যাকশন এন্ড ইয়ুথ এম্পাওয়ারমেন্ট অর্গানাইজেশন, কসমিক স্পোর্টস এন্ড হেলথ, গ্রীন লীড, গ্লোবাল ইয়ুথ প্লাটফর্ম,  মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, নওজুয়ান, প্রাণপ্রকৃতি, উশার আলো যুব সংঘ, ইয়ুথ চেঞ্জ সোসাইটি বাংলাদেশ, ইয়ুথ ইনোভেশন ফর অ্যাকশন, ও ইয়ুথ ভয়েস ফর চেঞ্জ এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে  প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সন্মানিত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির ।

এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস এর প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল,  ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি এর কৌশলগত উপদেষ্টা হারজিত সিং।

অনুষ্ঠানে সঞ্চলনা ও সূচনা বক্তব্য রাখেন, থ্রিফিফটিডটওআরজি এর দক্ষিণ এশিয়া সমন্বয়কারী আমানুল্লাহ পরাগ। এতে অংশগ্রহণ করেন তরুণ জলবায়ু এক্টিভিটিস , শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, সিভিল সোসাইটি সংগঠনের নেতারা।

‎প্রধান অতিথি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। জ্বালানি ও পরিবেশের এই আন্তঃসংযোগ সম্পর্কে জানানো এবং আলোচনা করার জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান সময়োপযোগী। বাংলাদেশ সরকারের বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য, আর তার মধ্যে জ্বালানি উল্লেখযোগ্য। কিন্তু জ্বালানি খাত এর টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। আমরা জ্বালানি বলতে সাধারণ ভাবে তেলভিত্তিক জ্বালানিকে বুঝি। গ্রীন হাউস গ্যাস এর কারনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর জন্য আমাদেরকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর নির্ভর করতে হবে। তিনি আশা করেন এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কিভাবে টেকসই করা যায় তা জানতে পারবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস এর প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অনাকাঙ্ক্ষিত ও অদূরদর্শী জ্বালানি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা আমাদের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়।

তাই জ্বালানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য উৎসের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের মোট জ্বালানির ৪০ শতাংশ আমদানী নির্ভর। আবার আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশী আমদানী নির্ভর। আমাদের জ্বালানি ব্যবহারে পুরোপুরি দক্ষতা নেই। আমাদের গ্যাস সম্পদের বিকল্প না থাকায় আমাদেরকে আমদানী করতে হয়। আমরা মোট যতটুকু বিদ্যুৎ জ্বালানি ব্যবহার করি, তার মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য। জ্বালানি ক্ষেত্রে একটি দেশের অবস্থান নির্ণয়ে তিনটি প্যারামিটার দেখা হয় যেগুলো হচ্ছে- জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানি সমতা ও জ্বালানি স্থায়ীত্বশীলতা। এগুলোর বিবেচনায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৮৩ তম, যা গত ২ বছর আগে ছিল ৭৭ তম। আমাদেরকে জ্বালানি ব্যবহারে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন,বিগত সরকার ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিকল্পনা করে, কিন্তু আমাদের আন্দোলনের ফলে মাত্র ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। আমরা জানার চেষ্টা করেছি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই এর কারনে আমাদের পরিবেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা দেখেছি দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে গ্রামে ফসলি ক্ষেতে এখন ফসল হয়না, নদীর পানিতে কেমিক্যাল এর কারনে মাছের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। উন্নয়ন কখনোই পরিবেশকে ক্ষতি করে হতে পারে না। সরকার কখনোই পরিবেশ সমীক্ষা করতে চায়না। দাতা সংস্থার চাপে সরকার সমীক্ষা করলেও তার গ্রহনযোগ্যতা নাই, কারন সেখানে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। যুব সমাজকে নিজের দেশের জীববৈচিত্র সম্পর্কে জানতে হবে, শুধু পরিবেশ এর জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেই হবেনা।

ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি এর কৌশলগত উপদেষ্টা হারজিত সিং বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক নেতিবাচক রাজনীতির কারনে জ্বালানি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা সবচেয়ে বড় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ। গত এক দশকে অনেক বিনিয়োগ হলেও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যাবহার এর অবস্থার উন্নতি হয়নি। জ্বালানি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের জন্য আমাদেরকে গুটি কয়েক দেশের উপর নির্ভর করতে হয় যেমন চায়না। এক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তাই আমদানী নির্ভর খনিজ সম্পদের উপর নির্ভরতা না কমলে জ্বালানি উৎপাদনে অগ্রগতি দুরুহ। আমরা নিজেদের প্রচেষ্টায় এর সমাধান করতে পারিনা। তাই আমাদেরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা বলতে হয়। শুন্য কার্বন নিঃসরন করার জন্য ২০৫০ কে টার্গেট করা হলেও উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তা অর্জন খুবই কষ্টকর। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকলের সহযোগিতা দরকার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনের ঝুকি নিয়ে গত এক দশকে এখনো কোন চুক্তি হয়নি। ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ এ এখন পর্যন্ত ১৭ টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে না থাকলেও বাংলাদেশ ভুমিকাও গুরুত্বপুর্ণ হতে পারে। কারন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা বলা দরকার।

‎অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। তিনি তার বক্তব্যে বলেন তিনি সবসময়ই এধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনকে সহায়তা করতে চান। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

‎প্রতিটি আলোচনার পর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় নিবন্ধিত ১৩০ জন তরুণ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।

‎অনুষ্ঠান শেষে ধরা-চট্টগ্রাম এর সদস্য সচীব নিজামুদ্দিন সারুদ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এসময় ধরা কক্সবাজার শাখার সহ সভাপতি ফরিদুল আলম শাহিন, পেকুয়া শাখার সমন্বয়ক দেলওয়ার হোসাইন সহ আরও অনেকই উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে যখন

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেওয়ার পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পুলিশ পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত সহায়তামূলক ভূমিকায় সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠে মোতায়েন থাকবে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় আয়োজিত ‘সিএএস দরবার’-এ সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশে কর্মরত সদস্যদের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, “কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে সেনাবাহিনী যে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে, তা দেশের মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।”

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশ ও জনগণ সেনাবাহিনীর এই সেবাকে স্মরণ রাখবে।”

সেনাপ্রধান জানান, সংবিধান ও বেসামরিক প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেনাবাহিনী স্বাভাবিক নিয়মে ব্যারাকে ফিরে যাবে। তবে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।” তিনি সেনাসদস্যদের ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭% জামায়াত ৩১.৭৬% এনসিপি ৩.০৩% ভোট পেয়েছে

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ২৯০ আসনে দলীয় প্রার্থী ছিল।
    ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। তাদের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে।
  • আজ রোববার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার সাংবাদিকদের জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের হারে তৃতীয় অবস্থানে আছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়ে তারা পেয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট। এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করেছে।
    গত তিন সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তারা লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট।
    এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। হাতপাখা প্রতীকে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
    ১১-দলীয় ঐক্যে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
    অন্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে আছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য।

মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মেলা শুরু রবিবার

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালী উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দিরের শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও আদিনাথ মেলা শুরু রবিবার থেকে।

শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে মহেশখালীর মৈনাক পাহাড়ের পাদদেশে বসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলনমেলা। শুধু সনাতনী সম্প্রদায়ই নয়, এই মিলনমেলায় সামিল হন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নর-নারী। প্রায় দুইশ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে “আদিনাথ মেলা” নামে পরিচিত এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন প্রতি বছর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও জাঁকজমকের সাথে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
প্রতি বছর শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটানসহ কয়েকটি দেশ থেকে হাজার হাজার পূজারী ও পর্যটক এসে জমায়েত হন। ফাল্গুন মাসের শুরুতে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে দেবাদিদেব শিবের আশীর্বাদ লাভের আশায় হিন্দু তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শিব দর্শন ও পূজা করে থাকেন।
ইতোমধ্যে এই মেলায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূজারী ও পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন আদিনাথ মন্দিরে। পূজারী আর পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে আদিনাথের মৈনাক পাহাড়ের চূড়া। বসেছে হরেক রকমের মেলার দোকান।
শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দে (কাউন্সিলর) বলেন, “প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সুশৃঙ্খলভাবে পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে। পূজারী ও ভক্তবৃন্দদের জন্য থাকার সু-ব্যবস্থা থাকবে। সাত দিনব্যাপী এই মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছে।”

মহেশখালী থানা ওসি মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, “আদিনাথ মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাননীয় পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় মহেশখালী থানা পুলিশের বিশেষ একটি টিম সর্বক্ষণিক টহলে থাকবে। মেলায় আগত পূজারী, ভক্ত ও অনুরাগীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
সাতদিন ব্যাপী এই মেলা আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মহেশখালীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।